অবশেষে মুক্তি পেলেন বাম যুব নেতা কলতান, হাই কোর্টে ৫০০ টাকার বন্ডে জামিন মঞ্জুর

এই মামলায় চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দিতে হবে রাজ্য সরকার ও কলতান উভয়পক্ষকেই। আগামী ১৮ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বৃহস্পতিবার ডিওয়াইএফআই নেতা কলতান দাশগুপ্তের জামিন মঞ্জুর করল কলকাতা হাই কোর্ট। আদালতের অনুমতি ছাড়া আর কলতানকে গ্রেফতার করা যাবে না। এমনকি আদালতের অনুমতি ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তও করতে পারবে না পুলিশ! ৫০০ টাকার বন্ডে কলতান জামিন পেলেন। তবে, এই মামলায় চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে হলফনামা জমা দিতে হবে রাজ্য সরকার ও কলতান উভয়পক্ষকেই। আগামী ১৮ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

তখন পঞ্চম দিন, স্বাস্থ্য ভবনের সামনে জুনিয়র চিকিৎসকরা ধর্নায় বসেছেন। সেই অবস্থান মঞ্চে হামলার আশঙ্কা সংক্রান্ত একটি ফোনালাপের অডিয়ো (যদিও সত্যতা যাচাই করেনি নজরবন্দি) প্রকাশ্যে আনেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। সেই সূত্রে গত শুক্রবার কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করে ডিওয়াইএফআই নেতা কলতান দাশগুপ্তকে। সঙ্গে গ্রেফতার করা হয় জনৈক সঞ্জীব দাসকে। গ্রেফতারির পরেই ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন কলতান। ক্ষোভে ফেটে পড়ে বাম শিবির।

গ্রেফতারির আগে রাতভর লালবাজারের কাছে ফিয়র্স লেনে ছিলেন কলতান দাশগুপ্ত। পরের দিন সকালে তিনি এবং আর এক বাম নেতা সংগ্রাম চট্টোপাধ্যায় দক্ষিণ কলকাতার দিকে একটি ট্যাক্সিতে ফিরছিলেন। রাস্তার মাঝেই একেবারে ফিল্মি কায়দায় দু’জনকে আটক করে পুলিশ। সংগ্রামকে ছেড়ে দেওয়া হলেও কলতানকে গ্রেফতার করা হয়। সেই অডিয়ো ক্লিপে ঠিক কী শোনা গিয়েছিল?

অডিয়ো ক্লিপে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘‘সাহেব অর্ডার করেছে সল্টলেক ওড়ানোর জন্য।’’ দ্বিতীয় ব্যক্তি উত্তরে বলেন, ‘‘অর্ডার হলে করে দে।’’ প্রথম ব্যক্তি ফের বলেন, ‘‘যারা পার্টনার আছে সবাই প্রশ্ন করছে?’’ দ্বিতীয় ব্যক্তি বলছেন, ‘‘কিছু ভেবেই তো বলেছে।’’ শুনে প্রথম ব্যক্তি বলেন, ‘‘আমি এত বছর এই কাজ করেছি, কোনও দিন ভয়ডর লাগেনি। কিন্তু এখন এটাতে বিবেকে লাগছে। করাটা কি ঠিক হবে? ওরা তো লোকের জীবন বাঁচায়।’’

এরপর দ্বিতীয় ব্যক্তি সাফ বলেন বলেন, ‘‘তোকে তো ফাইট টু ফিনিশ করতে বলেনি।’’ প্রথম ব্যক্তির জবাবে বলেন, ‘‘ছেলেরা মদ খেয়ে যায়। মারতে গিয়ে বেহাত যদি কিছু হয়ে যায়, সেটা তো চিন্তার বিষয়।’’ শুনে দ্বিতীয় ব্যক্তি বলেন, ‘‘সেটা ওকে বল, আমার এমন মনে হচ্ছে, কী করব?’’ প্রথম ব্যক্তি বলেন, ‘‘বাপ্পাদাকে পার্সোনালি জিজ্ঞেস করেছিলাম। বাপ্পাদা বলল, জানোয়ার হয়ে যায়নি এখনও।’’ দ্বিতীয় ব্যক্তির নির্দেশ, ‘‘ওই মতো করেই কর।’’

পাল্টা দ্বিতীয় ব্যক্তি বলেন, ‘‘দাদু বলছে, নবান্নে মিটিং হয়নি। ওরা তো সল্টলেকে ফেরত চলে আসছে। ভাববে শাসকেরা মারটা মেরেছে।’’ তার পরই দ্বিতীয় ব্যক্তি, প্রথম ব্যক্তির উদ্দেশে বলেন, ‘‘কী বলল কথাটা বুঝেছ? বলছে, পুরো দোষটা দিয়ে আরও অশান্তিটা পাকানো যাবে। তবে কলকাতার কাউকে দিয়ে নয়। বাইরের লোক।’’ সব শুনে প্রথম ব্যক্তি বলেন, ‘‘ঠিক আছে দেখছি। কী করব? মাথা ফাটানোটা কি ঠিক হবে?’’ শেষে দ্বিতীয় ব্যক্তি বলেন, ‘‘দেখ, খানিকটা যদি কিছু করা যায়।’’

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত