নজরবন্দি ব্যুরো: রবিবার সকালবেলা বাজি কারখানায় ভয়ানক বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে বারাসাত দত্তপুকুরের মোচপোল এলাকা। এই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েকজনের। যে বাড়িতে বাজি তৈরি হত, সেই বাড়িটি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এখনও চলছে উদ্ধারকাজ। এরই মধ্যে, স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসন এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের মদতেই হত অবৈধভাবে বাজি নির্মাণ।
আরও পড়ুন: দত্তপুকুরে বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, তিন শিশু সহ নিহত ৮


এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, চার জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন অন্তত আটজন। মৃতদের মধ্যে শিশুও আছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে রয়েছেন বারাসাত পুলিশ জেলার সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়। মোচপোলের বাসিন্দা সামসুল আলি বেআইনি বাজির কারবার চালাতেন বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের যোগ রয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। অভিযোগ, রাজনীতির সূত্রেই তিনি দিনের পর দিন ধরে বেআইনি কারবার চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

স্থানীয়রা আরও বলেছেন, বাঁশ বাগানে ছোট ছোট ঘুপচি তৈরি করে সেখানে বাজি তৈরি করতেন সামসুল। এই ঘুপচিগুলিতে রাখা হত প্রচুর পরিমাণে বারুদ। সেখানেই বাজি তোইরি করে সামসুল নিজের বাড়ির ছাদে বাজি শোকাতেন। এবার তাঁর বাড়িতেই এই বিস্ফোরণটি হয়। সামসুল নিজেও গুরুতরভাবে জখম হয়েছেন।



গোটা ঘটনায় এলাকার মানুষ আঙ্গুল তুলছেন পুলিশ প্রশাসন এবং শাসক দলের দিকে। তাঁদের দাবি, বারংবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও অবৈধ বাজি নির্মাণকে বন্ধ করতে পুলিশ কোনও ভূমিকা নেয়নি। বরং অভিযোগ করতে গেলে অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধেই ভুয়ো মামলা করে আটক করত পুলিশ।
প্রশাসন এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের মদতেই চলত অবৈধ বাজি কারখানা, রাগে ফুঁসছেন এলাকাবাসীরা
যদিও তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ এই অভযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, গত পঞ্চায়েত ভোটে মোচপোল এলেকায় আইএসএফ জিতেছে, তাঁদেরই ঘনিষ্ঠ এই সামসুল। তিনি পুলিশকে তদন্ত করে সত্য উদঘাটনের অনুরোধ জানিয়েছেন।








