আসন্ন নির্বাচনে জাল ভোট ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে বড় পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের। এবার চালু হচ্ছে ‘ডবল লেয়ার আইডেন্টিফিকেশন’—দুই ধাপে ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের নতুন ব্যবস্থা। বুথের বাইরে ও ভেতরে নজরদারি, কড়া নিরাপত্তা আর প্রযুক্তির ব্যবহারে ভোটকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করার লক্ষ্য নিয়েছে Election Commission of India।
এই নতুন ব্যবস্থায় প্রথম ধাপেই বুথে ঢোকার মুখে ভোটারদের পরিচয় যাচাই করবেন বিএলওরা। প্রাথমিক যাচাই পেরোলেই মিলবে বুথে প্রবেশের অনুমতি। এরপর বুথের ভিতরে দ্বিতীয়বার পরিচয় মিলিয়ে দেখা হবে—ফলে ভুয়ো ভোটের সম্ভাবনা অনেকটাই কমবে বলে মনে করছে কমিশন।
শুধু পরিচয় যাচাই নয়, নজরদারিতেও থাকছে কড়াকড়ি। বুথের ভেতরে ও বাইরে ওয়েবকাস্টিং ক্যামেরা বসানো হচ্ছে, যাতে প্রতিটি মুহূর্ত নজরে রাখা যায়। ভোটারদের মোবাইল ফোন বুথে নিয়ে যাওয়ার উপরও নিষেধাজ্ঞা থাকছে—বাইরেই জমা রেখে ঢুকতে হবে ভোটকেন্দ্রে।
এই সমস্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সোমবার হুগলি জেলাশাসক দপ্তরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন সেখানে। প্রশাসনের দাবি, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই জেলায় জোরদার হয়েছে নাকা চেকিং। বেআইনি অস্ত্র, নগদ টাকা ও মদের কারবার রুখতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন বিধি জারি হওয়ার পর থেকে বিপুল পরিমাণ বেআইনি মদ ও নগদ টাকা বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায়ও জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকবে, পাশাপাশি নিয়মিত রুট মার্চ চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বাড়তি নজরদারি রাখা হবে।
এছাড়াও প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য বাড়িতে গিয়ে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ৮৫ বছরের বেশি বয়সি ভোটারদের জন্য ১৮ এপ্রিল থেকে এই পরিষেবা শুরু হবে।
সব মিলিয়ে, এবারের ভোটে প্রযুক্তি, নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক কড়াকড়ির সমন্বয়ে নতুন এক নির্বাচন প্রক্রিয়া দেখতে চলেছে রাজ্য।



