নির্বাচনের আগে নজিরবিহীন কড়াকড়ি প্রশাসনের। সুষ্ঠু ও সন্ত্রাসমুক্ত ভোট নিশ্চিত করতে এবার বড় সিদ্ধান্ত—ভোটের দু’দিন আগে থেকেই সিভিক ভলেন্টিয়ারদের ছুটিতে পাঠানোর নির্দেশ। একইসঙ্গে জেলাজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, শুরু হয়েছে এরিয়া ডমিনেশন ও রুট মার্চ।
জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে রয়েছে ভোট প্রক্রিয়াকে নিরপেক্ষ রাখা। প্রশাসনের যুক্তি, ভোটের সময়ে কোনও রকম পক্ষপাত বা বিতর্ক এড়াতেই সিভিক ভলেন্টিয়ারদের কাজে না লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশ ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে পুলিশ প্রশাসনের কাছে।
একইসঙ্গে কঠোর বার্তা দিয়েছে প্রশাসন—কোনওভাবেই ছাপ্পা ভোট বা কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না। ভোটারদের বুথে যেতে বাধা দেওয়া হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি কোনও সরকারি কর্মী এই প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করলে তাঁর বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
এই প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে সম্প্রতি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে, যেখানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। স্পর্শকাতর ও অতিস্পর্শকাতর বুথ চিহ্নিত করে সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা মোতায়েনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এসব বুথে থাকবে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা এবং কুইক রেসপন্স টিম।
নজরদারি আরও জোরদার করতে বুথের আশপাশে ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে ভোটের আগেই বাড়ানো হচ্ছে কড়াকড়ি, প্রয়োজনে সেগুলি সিল করে দেওয়া হবে।
ভোটারদের সুবিধার দিকেও নজর দেওয়া হয়েছে। ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে এবং শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারদের জন্য বাড়িতে গিয়ে ভোটগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলায় তৈরি হচ্ছে এক হাজারেরও বেশি মহিলা পরিচালিত বুথ।
প্রশাসনের দাবি, এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তি, নিরাপত্তা এবং কঠোর নজরদারির সমন্বয়ে একটি স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ ভোট প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে এই কড়া পদক্ষেপে স্পষ্ট—যে কোনও ধরনের অনিয়ম রুখতে এবার শুরু থেকেই শক্ত অবস্থান নিচ্ছে প্রশাসন।



