ফলতা পুনর্নির্বাচন: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে পুনর্নির্বাচন। আগের ভোটকে ঘিরে ওঠা একাধিক অভিযোগের জেরে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে ফের ভোটগ্রহণ চলছে। তবে এবারের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চমক—ভোটের লড়াইয়ে কার্যত নেই তৃণমূল। প্রার্থীর নাম ইভিএমে থাকলেও ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ।
গত ২৯ এপ্রিল এই কেন্দ্রে ভোট হয়েছিল। ভোটের পর কয়েকটি বুথে ইভিএমে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ ওঠে, কিছু বুথে ইভিএমে টেপ ও আতর লাগানো হয়েছিল, যা নিয়ে ভোটারদের একাংশ আপত্তি জানান। অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন তদন্ত শুরু করে এবং ওয়েব কাস্টিংয়ের তথ্যও খতিয়ে দেখা হয়।


তদন্তে অসঙ্গতির ইঙ্গিত মেলার পর পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ফলতায় শুরু হয়েছে নতুন করে ভোটগ্রহণ। মোট ২৮৫টি বুথে চলছে ভোট।
নিরাপত্তার দিক থেকে এবার কড়া প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গোটা এলাকা ঘিরে রাখা হয়েছে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়ে। মোতায়েন করা হয়েছে ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় জওয়ান, পাশাপাশি রয়েছে ওয়েব কাস্টিংয়ের নজরদারি এবং যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুইক রেসপন্স টিম।
রাজনৈতিকভাবে এই ভোটে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় তৃণমূলের অবস্থান। প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ভোটের আগে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করলেও তাঁর নাম ইভিএমে রয়েছে। ফলে বাস্তবে ভোটের লড়াই সীমাবদ্ধ হয়েছে বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেসের মধ্যে।


সব মিলিয়ে ফলতার পুনর্নির্বাচন শুধু একটি কেন্দ্রের ভোট নয়, বরং নির্বাচন পরিচালনা, নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক অবস্থান—এই তিন দিক থেকেই রাজ্য রাজনীতির নজর কেড়েছে।



