সরকারি কর্মীদের প্রকাশ্য মন্তব্য ও মতপ্রকাশের উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। সরকারি কর্মচারীদের জন্য জারি হওয়া নতুন আচরণবিধি ঘিরে যখন প্রশাসনিক মহলে আলোচনা চলছে, তখনই বিষয়টি নিয়ে সরব হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনিক শৃঙ্খলার নামে মতপ্রকাশের পরিসর সংকুচিত করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন নির্দেশিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, সরকারি কর্মীদের নীরব থাকতে বাধ্য করা হলে তা প্রশাসনিক সংস্কৃতি নয়, বরং গণতান্ত্রিক চেতনার পরিপন্থী হয়ে দাঁড়াতে পারে।


অভিষেক তাঁর পোস্টে লেখেন, ‘নীরবতা এখন প্রশাসনিক আবশ্যকতা। এটা গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ।’ তাঁর দাবি, সরকারি কর্মীদের মত প্রকাশ বা প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরার ক্ষেত্র সীমিত করার চেষ্টা হলে তা বৃহত্তর গণতান্ত্রিক কাঠামোর উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি রাজ্য প্রশাসনের তরফে সরকারি আধিকারিক ও কর্মচারীদের জন্য একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। সেখানে সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য, সরকারি নথি বা তথ্য প্রকাশ, অনুমতি ছাড়া অনুষ্ঠান বা সম্প্রচারে অংশগ্রহণ এবং সরকারি নীতির প্রকাশ্য সমালোচনার ক্ষেত্রে একাধিক বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি শিবিরের বক্তব্য, এই নির্দেশিকার লক্ষ্য প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা, তথ্যের অপব্যবহার রোধ করা এবং সরকারি কাজের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা। প্রশাসনের দাবি, সরকারি কর্মচারীদের জন্য আচরণবিধি নতুন নয়, তবে তা কার্যকর করার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে।


অন্যদিকে বিরোধী রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারি কর্মীদের জনপরিসরে ভূমিকা কতটা হওয়া উচিত, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই বিতর্ক আপাতত রাজনৈতিক পরিসর ছাড়িয়ে প্রশাসনিক নীতি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে। আগামী দিনে এই নির্দেশিকা ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থান আরও স্পষ্ট হতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



