কলকাতা: সেবাশ্রয় শিবির ঘিরে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগে এবার বিধানসভায় বিস্তারিত বিবৃতি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শনিবার অধিবেশনে একাধিক অভিযোগের পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, এই স্বাস্থ্য শিবিরে চিকিৎসা করাতে গিয়ে বহু মানুষ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অভিযোগের সমর্থনে কয়েকজন আক্রান্তের ছবিও বিধানসভায় প্রদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
শুক্রবার ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডা (Debangshu Panda) বিধানসভায় সেবাশ্রয় শিবির নিয়ে একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গের জবাব দিতেই শনিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পকে ঘিরে ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে এবং তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তাঁর দাবি, বিষয়টি একটি বড় আর্থিক ও প্রশাসনিক কেলেঙ্কারির রূপ নিয়েছে।
বিধানসভায় বক্তব্যের সময় শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, সেবাশ্রয় শিবিরে চিকিৎসার পর কেউ স্থায়ীভাবে শারীরিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন, আবার কারও অঙ্গচ্ছেদ পর্যন্ত করতে হয়েছে। কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্তের ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, এই অভিযোগগুলির প্রত্যেকটিই অত্যন্ত গুরুতর এবং প্রতিটি ঘটনার পৃথকভাবে তদন্ত চলছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি অনুমোদিত ব্যবস্থার বাইরে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আল্ট্রাসোনোগ্রাফি ও এক্স-রে মেশিনও শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি, মেডিক্যাল কলেজের পড়ুয়াদেরও ওই শিবিরে কাজে লাগানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
শুভেন্দুর বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহারের অভিযোগও সামনে এসেছে। তিনি বিধানসভায় চিকিৎসক রাজীব বিশ্বাস (Rajib Biswas)-এর লেখা একটি চিঠির উল্লেখ করেন এবং জানান, এই সমস্ত অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে। তাঁর দাবি, প্রতিটি অভিযোগকে পৃথক এফআইআর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, তদন্তে সিআইডি (CID), এসটিএফ (STF), দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পুলিশ এবং মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি যৌথ দল কাজ করছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (Bharatiya Nyaya Sanhita)-র প্রাসঙ্গিক ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি ঘোষণা করেন।
প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-এর উদ্যোগে ডায়মন্ড হারবার-সহ বিভিন্ন এলাকায় সেবাশ্রয় শিবির পরিচালিত হয়েছিল। সেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হতো এবং বহু মানুষ এই পরিষেবা গ্রহণ করেছিলেন। তবে সরকার পরিবর্তনের পর ওই শিবিরকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। এর মধ্যে চিকিৎসায় গাফিলতি, চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবহার, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।
তদন্ত এখনও চলছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগগুলির সত্যতা আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। তবে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর এই বিস্তৃত বিবৃতির পর সেবাশ্রয় ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।



