দিল্লি: নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে যন্তর মন্তর (Jantar Mantar)-এ চলা ছাত্র আন্দোলন ঘিরে বড় দাবি করল দিল্লি পুলিশ (Delhi Police)। পুলিশের অভিযোগ, পাকিস্তান থেকে পরিচালিত একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট এআই-নির্ভর ভুয়ো ছবি, ডিপফেক ভিডিও এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে আন্দোলনকে ঘিরে ভুল বার্তা ছড়ানোর চেষ্টা করেছে। ইতিমধ্যেই ৪০০-রও বেশি এমন অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করে ব্লক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার রাজধানীতে সাংবাদিক বৈঠকে ডিসিপি (সেন্ট্রাল) রোহিত রাজবীর সিং (Rohit Rajbir Singh) বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janata Party-CJP)-র নেতৃত্বে যন্তর মন্তরে আন্দোলন চলছে। এই পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে, তবে সব পোস্ট, ভিডিও বা ছবি যে সত্য, তা নয়। তাই কোনও তথ্য বিশ্বাস বা শেয়ার করার আগে তা যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি।
দিল্লি পুলিশের দাবি, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে এআই-তৈরি ছবি, ডিপফেক ভিডিও, সম্পাদিত ক্লিপ এবং বিভ্রান্তিকর পোস্টের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই ধরনের ভুয়ো তথ্য চিহ্নিত করতে পুলিশ নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে এবং নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মেও ফ্যাক্ট-চেক করা তথ্য প্রকাশ করছে।
রোহিত রাজবীর সিং জানান, তদন্তে এমন কিছু সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলের সন্ধান মিলেছে, যেগুলি পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হচ্ছে। পুলিশের অভিযোগ, এই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে আন্দোলন সংক্রান্ত ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সহযোগিতায় আরও অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করার কাজ চলছে এবং ইতিমধ্যেই ৪০০-র বেশি হ্যান্ডেল ব্লক করা হয়েছে।
পুলিশের আরও দাবি, এই একই ধরনের কিছু অ্যাকাউন্ট অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) চলাকালীনও সক্রিয় ছিল। অভিযোগ, তারা সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকদের সরকারি বিবৃতি সম্পাদনা করে এবং ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট বিকৃত করে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করেছিল।
এদিকে, ২০ জুলাইয়ের আন্দোলনে এক মহিলা আন্দোলনকারীর মৃত্যুর যে দাবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছিল, সেটিকেও সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের বক্তব্য, ওই মহিলা জীবিত রয়েছেন এবং রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতাল (Ram Manohar Lohia Hospital-RML)-এ চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি বিপন্মুক্ত।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে যন্তর মন্তর এলাকায় নিরাপত্তাও বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।
পুলিশের এই দাবি তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে সামনে এসেছে। পাকিস্তান-যোগ, ভুয়ো তথ্য প্রচার এবং ডিপফেক ব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত এখনও চলছে। নতুন তথ্য সামনে এলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।



