সিজেপির এক কথাতেই ভেস্তে যায় ধর্মেন্দ্রকে নিয়ে প্ল্যান! কী বলেছিল ককরোচরা

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের আগে বিকল্প সমাধানের চেষ্টা করেছিল কেন্দ্র—এমনই দাবি জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। সিজেপি সেই প্রস্তাব মানেনি বলেই দাবি করা হয়েছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

NEET-UG ২০২৬ প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)-এর পদত্যাগের আগে বিকল্প রাজনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করেছিল কেন্দ্র—এমনই দাবি উঠে এসেছে একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শিক্ষা মন্ত্রক থেকে সরিয়ে অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আন্দোলনকারীদের মতামত জানতে চেয়েছিল কেন্দ্র। তবে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতৃত্ব সেই প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করে দেয় বলেই দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠার পর কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আন্দোলনের নেতৃত্বের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। সেই সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা (JP Nadda) এবং জিতেন্দ্র সিং (Jitendra Singh) যন্তর মন্তরে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে আলোচনা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেই বৈঠকে আন্দোলনকারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে যদি শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অন্য কোনও মন্ত্রকের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে আন্দোলন প্রত্যাহারের বিষয়ে তাঁরা রাজি হবেন কি না। তবে প্রতিবেদনের দাবি, সিজেপি নেতৃত্ব সেই প্রস্তাব গ্রহণ করতে অস্বীকার করে।

আন্দোলনকারীদের অবস্থান ছিল স্পষ্ট—ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শুধু শিক্ষা মন্ত্রক থেকে সরানো নয়, তাঁকে সম্পূর্ণভাবে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে হবে। তাঁদের দাবি ছিল, এটি কোনও ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট মন্ত্রকের বিরুদ্ধে আন্দোলন নয়; বরং গোটা পরীক্ষা ও নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া বৃহত্তর আন্দোলন।

রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, সরকার এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে দীর্ঘ সময় কার্যকর সমঝোতা না হওয়ায় অচলাবস্থা আরও গভীর হয়। দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় বিকল্প সমাধানের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের আগের ৪৮ ঘণ্টায় বিজেপি (Bharatiya Janata Party)-র অন্দরেও পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক দফায় আলোচনা হয়। দলের একাংশের মত ছিল, জনরোষ এবং সংসদের অচলাবস্থার মধ্যে তাঁকে শিক্ষা মন্ত্রকের দায়িত্বে রাখা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছিল। তাই বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা হলেও আন্দোলনকারীদের অনমনীয় অবস্থানের কারণে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অবশেষে প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনের পর ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপর সিজেপি নেতৃত্ব আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা করে এবং এই সিদ্ধান্তকে ছাত্র আন্দোলনের সাফল্য বলে দাবি করে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী (Pralhad Joshi)-কে।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অন্য মন্ত্রকে পাঠানোর প্রস্তাব, সিজেপির সঙ্গে সেই আলোচনা এবং তা প্রত্যাখ্যান করার বিষয়টি জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এই বিষয়ে কেন্দ্র সরকার বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন