নিট আন্দোলন ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হল। আন্দোলনের নামে হিংসা, নৈরাজ্য এবং সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার কলকাতায় বিক্ষোভ মিছিল করল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)। হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন থেকে দুটি পৃথক মিছিল ধর্মতলার উদ্দেশে রওনা দেয়। এবিভিপির পাশাপাশি আরএসএস (RSS)-ঘনিষ্ঠ আরও কয়েকটি শিক্ষা সংগঠনও এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে এবিভিপি কর্মী-সমর্থকদের জমায়েত শুরু হয়। পরে দুপুরে দুই প্রান্ত থেকে মিছিল শুরু হয়। শিয়ালদহ থেকে বের হওয়া মিছিলটি মৌলালি, এস এন ব্যানার্জি রোড হয়ে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত যাওয়ার কর্মসূচি ছিল। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ।
এবিভিপির অভিযোগ, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে ছাত্রদের আন্দোলনের আড়ালে কিছু সংগঠন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা করছে। সংগঠনের দাবি, গত ২০ জুলাই দিল্লিতে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির সময় অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল। একই ধরনের পরিস্থিতি পরে কলকাতাতেও দেখা গিয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, কলকাতার সাম্প্রতিক বিক্ষোভে পুলিশের দিকে জুতো ও জলের বোতল ছোড়া হয়েছে এবং কর্তব্যরত সাংবাদিকদেরও নিগ্রহের অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ঘটনাগুলির প্রতিবাদেই মঙ্গলবারের মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এবিভিপি।
সংগঠনের এক নেতা বলেন, ছাত্রদের ন্যায্য দাবি নিয়ে আন্দোলন অবশ্যই গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ হওয়া উচিত। তাঁর অভিযোগ, কিছু বামপন্থী ছাত্র সংগঠন শিক্ষার্থীদের আবেগকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে এবং তার ফলে সমাজে বিভাজনের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। তাঁর মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি শিক্ষাঙ্গনের পক্ষে উদ্বেগজনক।
এর আগে সোমবারও উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপি (Bharatiya Janata Party)-র উদ্যোগে শহরে ‘তিরঙ্গা যাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়। শিয়ালদহ স্টেশন থেকে শুরু হওয়া সেই মিছিল মৌলালি ও এস এন ব্যানার্জি রোড হয়ে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত যায়। ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় (Tapas Roy), পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul), বরাহনগরের বিধায়ক সজল ঘোষ (Sajal Ghosh) এবং উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ (Tamoghna Ghosh)।
মঙ্গলবারের এবিভিপি মিছিলের ফলে নিট আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। একদিকে ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচি, অন্যদিকে সেই আন্দোলনের ধরন নিয়ে পাল্টা প্রতিবাদ—এই আবহে কলকাতার রাজনীতি ও ছাত্র রাজনীতি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।



