দিল্লি: সংসদের বাদল অধিবেশনের মাঝেই রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে নতুন কৌশল নিল কালীঘাট তৃণমূল। সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla)-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-র নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের সাংসদরা। একদিকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)-এর সাসপেনশন প্রত্যাহারের আর্জি, অন্যদিকে দলত্যাগী ২০ জন সাংসদের সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।
সোমবার সংসদ ভবনে স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে তৃণমূলের প্রতিনিধিদল জানায়, চলতি অধিবেশন থেকে বরখাস্ত হওয়া দলের মুখ্য সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফের অধিবেশনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া উচিত। তাঁদের দাবি, শাস্তি পুনর্বিবেচনা করে সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হোক।
এর পাশাপাশি আরও একটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ দাবি তোলা হয়। তৃণমূল ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ-বিরোধী আইনের অধীনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা। তাঁদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট সাংসদদের সদস্যপদ খারিজের প্রক্রিয়া আর বিলম্বিত করা উচিত নয়।
লোকসভার চলতি অধিবেশনে এই ২০ জন সাংসদকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে। বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakoli Ghosh Dastidar) এবং কলকাতা উত্তর কেন্দ্রের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (Sudip Bandyopadhyay)-এর নেতৃত্বে এনসিপিআই সাংসদরা পৃথক সংসদীয় দলের স্বীকৃতি, আলাদা আসন এবং কক্ষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি। আপাতত লোকসভায় তাঁদের জন্য পৃথক আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
রাজনৈতিক সূত্রের খবর, মঙ্গলবার দিল্লিতে এনসিপিআই নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে। পৃথক সংসদীয় দল হিসেবে এগোনো হবে, নাকি অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে তারা ঝুঁকবে— সেই দিকেই নজর রয়েছে।
এই আবহে স্পিকারের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়দের বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও বৈঠকের পর স্পিকারের তরফে দুই দাবির কোনও ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়া গিয়েছে বলে জানা যায়নি। তবু তৃণমূল স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, দলত্যাগী সাংসদদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশন প্রত্যাহারের দাবিতে তারা অনড়।
সব মিলিয়ে সংসদের ভিতরে ও বাইরে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। দলত্যাগ, সংসদীয় স্বীকৃতি এবং সাসপেনশন— এই তিন ইস্যু আগামী কয়েক দিনের জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।



