নদিয়ার নাকাশিপাড়া (Nakashipara)-য় সরকারি খাস জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার এবং মূল্যবান গাছ পাচারের অভিযোগে বড় নির্দেশ দিল কৃষ্ণনগর মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (Krishnanagar Chief Judicial Magistrate Court)। আদালত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee), শাহজাহান শেখ (Shahjahan Sheikh)-সহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) নথিভুক্ত করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি নাকাশিপাড়া থানা (Nakashipara Police Station)-কে আইন অনুযায়ী তদন্ত চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সোমবার মামলার শুনানি শেষে মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট তরুণ কুমার মণ্ডল (Tarun Kumar Mondal) এই নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ প্রকাশ্যে আসার পর মামলাকারীদের সমর্থকদের আদালত চত্বরে লাড্ডু বিতরণ করে আনন্দ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
মামলাকারীদের আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাস (Shirshendu Das) জানান, গত ২৫ জুন কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। প্রাথমিক শুনানির পর আদালত নাকাশিপাড়া থানার কাছে একটি রিপোর্ট তলব করে। পুলিশ সেই রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর সোমবার মামলার শুনানি হয় এবং তার ভিত্তিতেই এফআইআর নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, নাকাশিপাড়ার ২৪ নম্বর মৌজায় জাতীয় সড়ক ১২-র ধারে অবস্থিত প্রায় ১,১০০ বিঘা সরকারি খাস জমির লিজ ২০২০ সালেই শেষ হয়ে যায়। অভিযোগ, এরপরও ওই জমির একটি বড় অংশ থেকে বেআইনিভাবে মাটি কেটে বিক্রি করা হয়। মামলাকারীদের দাবি, প্রায় সাড়ে ৪০০ বিঘা জমি থেকে মাটি সরানো হয়েছে এবং হাজার হাজার সেগুন ও মেহগনি গাছ কেটে পাচার করা হয়েছে, যার ফলে সরকারি সম্পত্তির বড় ক্ষতি হয়েছে।
মামলাকারীদের পক্ষের আইনজীবী আরও দাবি করেন, এই ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা ছিল এবং সেই কারণেই পুলিশ এতদিন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তবে এই অভিযোগগুলি মামলাকারীদের দাবি; আদালত এই পর্যায়ে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত মত প্রকাশ করেনি।
মামলাকারী পরাশর মণ্ডল (Parashar Mondal) আদালতের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটা, গাছ বিক্রি এবং সরকারি সম্পত্তি দখলের অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দাবি, এত বড় কর্মকাণ্ড একা কারও পক্ষে সম্ভব নয় এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আদালতের এই নির্দেশের অর্থ হল অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা রুজু করে তদন্ত করতে হবে। এটি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণের সমতুল্য নয়। তদন্তের পর সংগৃহীত প্রমাণ, পুলিশের রিপোর্ট এবং পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।



