‘ককরোচ’-এর পর নতুন সোশ্যাল মিডিয়া ঝড়! ‘রিজার্ভেশন হটাও আন্দোলন’-এর উত্থান, ইনস্টাগ্রামে ৫৬ লক্ষের বেশি অনুসারী

‘ককরোচ’ ও ‘ই-২০’-এর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন সংগঠন ‘রিজার্ভেশন হটাও আন্দোলন’-এর দ্রুত উত্থান। ইনস্টাগ্রামে ৫৬ লক্ষের বেশি অনুসারী, সংরক্ষণ নীতি নিয়ে একাধিক পোস্টে বাড়ছে আলোচনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র আলোচিত আন্দোলনের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক নতুন প্রচারমুখী সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটছে। ‘ই-২০ জনতা পার্টি’র পর এবার নজরে এসেছে ‘রিজার্ভেশন হটাও আন্দোলন’ (Reservation Hatao Andolan – RHA)। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে এই সংগঠনের অনুসারীর সংখ্যা ৫.৬ মিলিয়ন (৫৬ লক্ষ)-এর গণ্ডি ছাড়িয়ে গিয়েছে, যা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে সংগঠনটির শতাধিক পোস্ট ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। প্রোফাইলে দেখা যাচ্ছে, তারা শুধুমাত্র ভারতীয় সেনাকে (Indian Army) অনুসরণ করছে। পাশাপাশি প্রোফাইল বায়োতে রয়েছে ড. ভীমরাও রামজি আম্বেদকর (Dr. B. R. Ambedkar)-এর বহুল পরিচিত আহ্বান—‘শিক্ষিত হও, আন্দোলন করো, সংগঠিত হও’। এছাড়াও হিন্দিতে লেখা রয়েছে, “সারি জাতি এক সমান, মেরা বস ইয়ে দেশ মহান”—অর্থাৎ জাতিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে সমতার বার্তা।

সংগঠনটির দাবি, তাদের কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। যদিও এই উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা বা পরিচালকদের পরিচয় এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। বিভিন্ন পোস্টে তারা সংরক্ষণ নীতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। সংগঠনের বক্তব্য, বর্তমান সংরক্ষণ ব্যবস্থা মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতাকে প্রভাবিত করে এবং সমাজে বিভাজন বাড়ায়। তাদের দাবি, জাতিগত পরিচয়ের পরিবর্তে যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত।

সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র উত্থান দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। নিট প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতার দাবিতে যন্তর মন্তরে তাদের আন্দোলন ব্যাপক জনসমর্থন পেয়েছিল। আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ঘিরেও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। সেই আবহেই ‘রিজার্ভেশন হটাও আন্দোলন’-এর মতো নতুন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মভিত্তিক সংগঠনগুলির জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে বলে পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত।

এদিকে, শুধু আরএইচএ নয়, ‘ই-২০ জনতা পার্টি’ও সাম্প্রতিক সময়ে নেটমাধ্যমে আলোচনায় উঠে এসেছে। ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষকে সামনে রেখে এই সংগঠনটি প্রচার শুরু করেছে। এক্স (X)-এ তাদের অনুসারীর সংখ্যা ইতিমধ্যেই প্রায় ৪২,৫০০ ছুঁয়েছে এবং ইনস্টাগ্রামে ১.২৫ লক্ষেরও বেশি ফলোয়ার রয়েছে। তবে এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা বা পরিচালনাকারীদের পরিচয়ও এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

সোশ্যাল মিডিয়াকেন্দ্রিক এই নতুন সংগঠনগুলির দ্রুত জনপ্রিয়তা দেখিয়ে দিচ্ছে, সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এখন জনমত গঠনের অন্যতম বড় ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। তবে এই সংগঠনগুলির দাবি, উদ্দেশ্য এবং ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে এখনও নানা প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে, যার উত্তর সময়ই দেবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন