ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-কে ঘিরে ফের নতুন বিতর্কের সূত্রপাত। এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার মহেশতলার জিনজিরা বাজার এলাকায় সরকারি লিজপ্রাপ্ত জমি এবং নথিভুক্ত জলাশয় সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে মহেশতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি)। অভিযোগপত্রে প্রায় ৫২ বিঘা জমির ব্যবহার, জমির চরিত্র পরিবর্তন এবং সরকারি নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
অভিযোগকারী বিজেপি নেতার দাবি, জিনজিরা বাজার এলাকায় প্রায় ৫২ বিঘা সরকারি জমি ১৯৬৮ সালে একটি বেসরকারি সংস্থাকে ৯৯ বছরের লিজে দেওয়া হয়েছিল। সেই লিজের অন্যতম শর্ত ছিল শিল্প সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয় যুবকদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। কিন্তু তাঁর অভিযোগ, ২০১৬ সালে প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই ওই শর্ত পরিবর্তন করে জমিটিকে বাণিজ্যিক ব্যবহারের উপযোগী করা হয়।
অভিজিৎ দাসের আরও দাবি, সংশ্লিষ্ট জমির মধ্যে নথিভুক্ত ১১টি জলাশয় ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ সালে ভুয়ো মেমো ব্যবহার করে সেই জলাশয়গুলির জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ‘বাস্তু’ হিসেবে দেখানো হয়। পরে ওই এলাকায় একটি লজিস্টিক পার্ক গড়ে তোলা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে শুধু বেসরকারি সংস্থাই নয়, সরকারি আধিকারিক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, গোটা প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা থাকতে পারে। সেই কারণেই তিনি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন এবং পুলিশকে বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন।
এটি প্রথমবার নয়, এর আগেও অভিজিৎ দাস একাধিক ইস্যুতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। সম্প্রতি ডায়মন্ড হারবারে ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবির পরিচালনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও তিনি সামনে আনেন। সেই বিষয়ে স্বাস্থ্য ভবন তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।
এছাড়া সোমবারই করোনা মহামারির সময় ডায়মন্ড হারবারে কোভিড পরীক্ষা সংক্রান্ত কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগও করেন অভিজিৎ দাস। তাঁর দাবি, ওই কর্মসূচি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছিল। সেই অভিযোগ জানিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর থানায়ও পৃথক লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই সমস্ত অভিযোগ বর্তমানে অভিযোগকারীর দাবি হিসেবে সামনে এসেছে। অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও সরকারি তদন্তে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ করে এবং তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে, তার দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।



