দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের (France National Football Team) প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেলেন কিংবদন্তি জ়িনেদিন জ়িদান (Zinedine Zidane)। ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (French Football Federation) মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নিয়োগের ঘোষণা করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ (FIFA World Cup) পর্যন্ত কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappe)-দের দায়িত্বে থাকবেন জ়িদান। প্রায় ১৪ বছর পর ফ্রান্সের জাতীয় দলের কোচের পদে পরিবর্তন ঘটল।
২০১২ সালে দিদিয়ের দেশঁ (Didier Deschamps) ফ্রান্সের দায়িত্ব নেওয়ার পর জাতীয় দল একাধিক সাফল্য পেয়েছে। তাঁর কোচিংয়েই ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জেতে ফ্রান্স। তবে দেশঁ আগেই জানিয়েছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর তিনি আর দায়িত্বে থাকবেন না। এরপর থেকেই ফরাসি ফুটবলের অন্যতম সফল মুখ জ়িনেদিন জ়িদানের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে আসে।
ফরাসি ফুটবল মহলে দীর্ঘদিন ধরেই মনে করা হচ্ছিল, জাতীয় দলের পরবর্তী কোচ হিসেবে জ়িদানই সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার। শুধু তাঁর খেলোয়াড়ি জীবনের সাফল্য নয়, কোচ হিসেবেও অসাধারণ রেকর্ড তাঁকে এগিয়ে রেখেছিল। জ়িদান নিজেও অতীতে একাধিকবার ফ্রান্সের কোচ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার আগে ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে প্রাথমিক চুক্তি সম্পন্ন করেন তিনি। ক্লাব ফুটবলে রিয়াল মাদ্রিদ (Real Madrid)-এর কোচ হিসেবে জ়িদানের সাফল্য আজও অনন্য। ২০১৬ থেকে ২০১৮ এবং পরে ২০১৯ থেকে ২০২১—দু’দফায় রিয়ালের দায়িত্ব সামলে আধুনিক ফুটবলে বিরল নজির গড়েন তিনি। তাঁর কোচিংয়ে রিয়াল টানা তিনবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ (UEFA Champions League) জেতে। এছাড়া দুটি লা লিগা (La Liga), দুটি ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ (FIFA Club World Cup), দুটি উয়েফা সুপার কাপ (UEFA Super Cup) এবং দুটি স্প্যানিশ সুপার কাপ (Spanish Super Cup) জয়ের কৃতিত্বও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।
২০২১ সালে রিয়াল মাদ্রিদের কোচের পদ ছাড়ার পর দীর্ঘ সময় কোনও দলের দায়িত্ব নেননি জ়িদান। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার দেশের জাতীয় দলের ডাগআউটে ফিরছেন তিনি।
ফ্রান্সের প্রধান কোচ হিসেবে জ়িদানের প্রথম পরীক্ষা হবে উয়েফা নেশনস লিগে (UEFA Nations League)। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর তুরস্কের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে তাঁর কোচিং অধ্যায় শুরু হবে। একই গ্রুপে রয়েছে বেলজিয়াম (Belgium) এবং ইতালি (Italy)। ফলে শুরু থেকেই কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হবে নতুন কোচকে।
ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে জ়িদানের অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে দেশের প্রথম বিশ্বজয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন তিনি। সেই দলের অধিনায়ক ছিলেন দিদিয়ের দেশঁ। এবার সেই দেশঁর গড়ে তোলা দলকেই নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিলেন জ়িদান। গত বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপেদের দল চতুর্থ স্থানে শেষ করেছিল। আগামী বিশ্বকাপের আগে সেই হতাশা কাটিয়ে আবারও শিরোপার লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনাই হবে জ়িদানের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।



