Maruti Suzuki Brezza ২০২৬ টার্বো রিভিউ: ৭.৪০ লাখ টাকায় কী পাচ্ছেন? জানুন ডিটেইল্ড ইম্প্রেশন

২০২৬ Maruti Brezza Turbo-র দাম ৭.৪০ লাখ টাকা থেকে। নতুন ১০৯ bhp ইঞ্জিন, ৫-স্টার সেফটি রেটিং ও আপডেটেড ফিচার্স—জানুন এই কমপ্যাক্ট SUV-র বিস্তারিত রিভিউ ও ইম্প্রেশন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মারুতি সুজুকি ব্রেজা (Maruti Suzuki Brezza) ভারতের কমপ্যাক্ট SUV সেগমেন্টে এক দশক ধরে টিকে থাকার নজির তৈরি করেছে। ২০১৬ সালে লঞ্চ হওয়া এই গাড়িটি ২০২২ সালে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করে, আর এখন সম্প্রতি এটি পেয়েছে তার প্রথম ফেসলিফ্ট। দামও কমেছে—শুরু হচ্ছে ৭.৪০ লাখ টাকা (এক্স-শোরুম) থেকে । আগের চেয়ে বেশি পাওয়ারফুল, আপডেটেড ফিচার্স আর পাঁচ তারকা সেফটি রেটিং নিয়ে বাজারে ফিরেছে ব্রেজা। কিন্তু এই গাড়িটি কি সত্যিই কেনার মতো? চলুন জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত রিভিউ।

দামে কী সুবিধা পাচ্ছেন:
ব্রেজার এই নতুন টার্বো পেট্রোল ভার্সনের দাম শুরু হচ্ছে ৭.৪০ লাখ টাকা থেকে, যা আগের তুলনায় কম । সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এই দামেই আপনি পাচ্ছেন ১০৯ bhp পাওয়ার এবং ১৭০ Nm টর্ক—যা ফ্রনক্সের (Fronx) চেয়েও বেশি । পাঁচটি ভেরিয়েন্টে (LXi, VXi, ZXi, ZXi+, ZXi+ DT) এই গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। তবে এখন শুধুমাত্র ম্যানুয়াল ট্রান্সমিশনেই পাওয়া যাচ্ছে, অটোমেটিক অপশন এই ভার্সনে নেই।

ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স:
এই ফেসলিফ্টের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে ইঞ্জিনে। নতুন 1.0-লিটার Boosterjet ইঞ্জিনে পাওয়া যাচ্ছে ১০৯ bhp এবং ১৭০ Nm টর্ক। শহরের যানজটে এই ইঞ্জিনের পারফরম্যান্স অত্যন্ত সহজ ও ঝামেলামুক্ত। ৪৮-ভোল্ট মাইল্ড হাইব্রিড সিস্টেম ও আইডল স্টার্ট-স্টপ টেকনোলজি এই ইঞ্জিনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, যা লো আরপিএমে টার্বো ল্যাগ কমাতে সাহায্য করে। ইঞ্জিনটি ৬০০০ আরপিএম পর্যন্ত নির্দ্বিধায় ঘোরে, যা হাইওয়েতে ওভারটেক করার সময় যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস দেয়। ৬-স্পীড ম্যানুয়াল গিয়ারবক্সটি ফ্রনক্সের ৫-স্পীডের তুলনায় একটি বড় আপগ্রেড—গিয়ার রেশিও ভালোভাবে সাজানো, শিফটগুলো হালকা ও নির্ভুল এবং পুরো গিয়ারিংটি ব্রেজার ওজন ও চরিত্রের সঙ্গে খাপ খাইয়েছে। মারুতির দাবি, টপ-স্পেক ZXi+ টার্বো মডেলের মাইলেজ ১৯.৯৬ কিমি/লিটার।

ফিচার্স ও ইন্টেরিয়র:
নতুন ব্রেজার কেবিন আগের মতোই পরিচিত, তবে কিছু জায়গায় আপডেট এসেছে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো নতুন ১০.১-ইঞ্চি টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম। নতুন এই স্ক্রিনটি পরিষ্কার ও ব্যবহারে সহজ, তবে রোদের আলোতে কিছুটা ফ্যাকাসে লাগে। এর সঙ্গে আছে ওয়্যারলেস অ্যান্ড্রয়েড অটো ও অ্যাপল কারপ্লে, ৬৪-কালার অ্যাম্বিয়েন্ট লাইটিং, ভেন্টিলেটেড ফ্রন্ট সিট, এয়ার পিউরিফায়ার, হেড-আপ ডিসপ্লে, ওয়্যারলেস চার্জার ও বৈদ্যুতিক সানরুফের মতো ফিচার্স।

তবে ইন্টেরিয়রের কিছু অংশ এখন পুরনো মনে হয়। ড্যাশবোর্ড ও ডোর প্যানেলে নরম টাচের অভাব রয়েছে, যা প্রতিযোগীরা দিতে শুরু করেছে। প্যানোরামিক সানরুফ বা পাওয়ারেড ড্রাইভার সিটের মতো ফিচার্সও নেই, যা এই দামে ক্রেতারা এখন আশা করেন । অডিও সিস্টেমটিও দুর্বল—ছয়টি স্পিকার থাকলেও শব্দের গভীরতা ও ডিটেইলের অভাব রয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, কেবিনের মান ভালো হলেও প্রতিযোগীদের তুলনায় এটি কিছুটা পিছিয়ে।

রাইড ও হ্যান্ডলিং:
ব্রেজা সবসময় আরামের জন্য তৈরি করা হয়েছে। সাসপেনশন সেটআপে নরম ও কুশনযুক্ত অনুভূতি রয়েছে, যা শহরের খারাপ রাস্তায়ও আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করে। হাইওয়েতে গাড়িটি স্থিতিশীল লাগে। স্টিয়ারিং শহরে হালকা ও সহজ, তবে হাইওয়েতে একটু ডেড জোন রয়েছে, যা সুনির্দিষ্টভাবে গাড়ি চালানোর সময় একটু বেশি মনোযোগের প্রয়োজন হয়।

শব্দ নিয়ন্ত্রণের দিক থেকে ব্রেজা কিছুটা পিছিয়ে। হাইওয়ের গতিতে বাতাস ও টায়ারের শব্দ কেবিনে প্রবেশ করে। শহরে এই শব্দ কম হলেও রুক্ষ রাস্তায় তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ফাইনাল ভ্যার্ডিক্ট:
৭.৪০ লাখ টাকার starting price-এ ২০২৬ ব্রেজা টার্বো কমপ্যাক্ট SUV বাজারে একটি শক্তিশালী বিকল্প হয়ে উঠেছে। পঞ্চমাত্রায় তীক্ষ্ণ টার্বো পেট্রোল ইঞ্জিন, ৫-স্টার BNCAP সেফটি রেটিং এবং মারুতির বিশ্বস্ততা ও রক্ষণাবেক্ষণ-বান্ধব পরিষেবা—এই গাড়ির প্রধান আকর্ষণ ।

তবে এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ইন্টেরিয়র ডিজাইন কিছুটা পুরনো, অটোমেটিক ট্রান্সমিশন এবং প্যানোরামিক সানরুফের মতো ফিচার্সের অভাব রয়েছে। এটি এমন একটি গাড়ি যা ব্যবহারিকতা, নিরাপত্তা এবং ড্রাইভিং আনন্দের সঠিক ভারসাম্য খোঁজে—এবং সেই কাজটি এটি ভালোভাবেই করে।

আমাদের Auto বিভাগে আরও গাড়ির খবর, রিভিউ ও লেটেস্ট আপডেট পাবেন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন