শ্রাবণের শেষ পূর্ণিমায় বর্ষার শেষ বৃষ্টির মেঘ সরে গেলে আকাশ যেমন পরিষ্কার হয়, তেমনি ভাই-বোনের সম্পর্কেও একটু মাধুর্য ছড়িয়ে দেয় রাখী পূর্ণিমা। আগামী ২৮শে আগস্ট, শুক্রবার—এই বছর শ্রাবণী পূর্ণিমা, ঝুলনযাত্রার সমাপ্তি ও রাখী পূর্ণিমা—তিনটি শুভ তিথি একসঙ্গে পড়েছে। তাই এই দিনের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। জেনে নিন শুভ সময় থেকে শুরু করে পুজোর নিয়ম, আর কী করবেন, কী করবেন না—সবটাই।
রাখী পূর্ণিমা ২০২৬: পূর্ণিমা তিথি ও শুভ সময়
২০২৬ সালের রাখী পূর্ণিমার জন্য পূর্ণিমা তিথি ও রাখি বাঁধার শুভ সময় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| উৎসবের দিন | ২৮শে আগস্ট ২০২৬, শুক্রবার |
| পূর্ণিমা তিথি শুরু | ২৭শে আগস্ট, সকাল ০৯:০৮ |
| পূর্ণিমা তিথি শেষ | ২৮শে আগস্ট, সকাল ০৯:৪৮ |
| রাখি বাঁধার শুভ সময় | ২৮শে আগস্ট, সকাল ০৫:৫৭ থেকে ০৯:৪৮ |
| বিকল্প শুভ সময় | ২৮শে আগস্ট, দুপুর ০১:৩২ থেকে বিকেল ০৪:০৭ |
| রাহুকাল (বর্জনীয়) | ২৮শে আগস্ট, সকাল ১০:৫৮ থেকে দুপুর ১২:৩৪ |
শুভ সময় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
-
সকালের শ্রেষ্ঠ সময়: ২৮শে আগস্ট সকাল ০৫:৫৭ থেকে ০৯:৪৮ পর্যন্ত রাখি বাঁধার অত্যন্ত শুভ সময় । এই সময়ে ভদ্রা কালের কোনো প্রভাব নেই এবং পূর্ণিমা তিথি বিদ্যমান থাকবে ।
-
বিকল্প সময়: প্রয়োজন হলে দুপুর ০১:৩২ থেকে বিকেল ০৪:০৭ সময়টিও রাখি বাঁধার জন্য নির্বাচন করতে পারেন । উল্লেখ্য, ২৮শে আগস্ট রাহুকাল সকাল ১০:৫৮ থেকে দুপুর ১২:৩৪ পর্যন্ত, তাই এই সময়ে কোনো শুভ কাজ না করাই ভালো ।
রাখী পূর্ণিমার পুজোর নিয়ম ও পদ্ধতি
রাখী পূর্ণিমার দিন শাস্ত্রসম্মত পদ্ধতিতে পুজো করলে উৎসবের পুণ্য ও মাহাত্ম্য বহুগুণে বৃদ্ধি পায় ।
পুজোর পূর্বপ্রস্তুতি:
১. ব্রহ্মমুহূর্তে বা সূর্যোদয়ের পর স্নান করে পরিষ্কার পোশাক পরিধান করুন।
২. পূজার জন্য প্রয়োজনীয় সকল উপকরণ দিয়ে পূজার থালি সাজান ।
পূজার থালিতে কী কী রাখবেন:
-
রাখি
-
রোলি বা সিঁদুর
-
অক্ষত (আটা বা চাল)
-
প্রদীপ (ঘি বা তেলের)
-
মিষ্টি (মিষ্টান্ন, ফল)
-
জল ও ফুল
পুজোর বিস্তারিত ধাপ:
১. ইষ্টদেবতার স্মরণ ও সংকল্প:
পুজো শুরু করার আগে ভগবান গণেশ ও মাতা লক্ষ্মীর স্মরণ করে নিজের ও পরিবারের মঙ্গল কামনা করে সংকল্প নিন ।
২. ভাইকে পূর্ব বা উত্তর দিকে বসান:
ভাইকে পূর্ব বা উত্তর দিকে মুখ করে বসান ।
৩. মাথায় তিলক ও অক্ষত দেওয়া:
ভাইয়ের মাথায় রোলি বা সিঁদুর দিয়ে তিলক লাগান এবং অক্ষত দেন । এই তিলক ভাইয়ের দীর্ঘায়ু, বুদ্ধি ও সাফল্যের প্রতীক ।
৪. আরতি করুন:
তিলক দেওয়ার পর ভাইয়ের আরতি করুন। প্রদীপ দিয়ে তিন বা পাঁচ বার ঘুরিয়ে আরতি করলে অপশক্তি দূর হয় 。
৫. রাখি বাঁধুন ও মন্ত্র পাঠ করুন:
ভাইয়ের ডান হাতের কব্জিতে রাখি বেঁধে দিন এবং ভাইয়ের সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও সাফল্য কামনা করে প্রার্থনা করুন । সহজ মন্ত্র— “যদি কোনো ভাই দূরে থাকেন, তবে কীভাবে অনলাইনে রাখি পাঠাবেন?” — এই প্রশ্নের উত্তরও দিতে পারেন। এর মতে, রাখি শুধু ভাই-বোনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; যেকোনো প্রিয়জনের মঙ্গল কামনায় তাদের হাতেও রাখি বাঁধতে পারেন ।
৬. মিষ্টি খাওয়ান ও উপহার দিন:
রাখি বাঁধার পর ভাইকে মিষ্টি খাওয়ান । এরপর ভাই বোনকে উপহার দিয়ে তার জীবনভর রক্ষার প্রতিজ্ঞা করেন ।
৭. ভাইয়ের কাছ থেকে আশীর্বাদ গ্রহণ করুন:
ভাইয়ের কাছ থেকে আশীর্বাদ নিন ও তার মঙ্গল কামনা করুন।
রাখী পূর্ণিমায় কী করবেন না
-
প্লাস্টিকের বা কৃত্রিম রাখি ব্যবহার: শাস্ত্র মতে, রেশম বা সুতির তৈরি সাধারণ রাখি ব্যবহার করাই সবচেয়ে শুভ। প্লাস্টিক বা কৃত্রিম উপাদানে তৈরি রাখি ভাইয়ের জন্য অমঙ্গল বয়ে আনতে পারে ।
-
রাহুকালে রাখি বাঁধা: ২৮শে আগস্ট সকাল ১০:৫৮ থেকে দুপুর ১২:৩৪ পর্যন্ত রাহুকাল চলবে। এই সময় শুভ কাজ করা উচিত নয়।
রাখী পূর্ণিমার বিশেষ মাহাত্ম্য
রাখী পূর্ণিমা কেবল ভাই-বোনের উৎসব নয়, বরং এই দিনটির ধর্মীয় ও পৌরাণিক গুরুত্ব অপরিসীম। এই দিন থেকেই চাতুর্মাস্য ব্রত শুরু হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠার সাথে রাখি বাঁধলে এবং পুজো করলে ভাই-বোনের সম্পর্ক আরও মজবুত হয় এবং পারিবারিক সুখ-সমৃদ্ধি আসে।
❓ রাখী পূর্ণিমা নিয়ে কিছু সাধারণ প্রশ্ন
প্রশ্ন: ভাই যদি দূরে থাকে, তাহলে কী করবেন?
উত্তর: ডাকযোগে বা কুরিয়ারে রাখি পাঠাতে পারেন। ভাইও দূর থেকে আশীর্বাদ পাঠাতে পারেন। এতে সম্পর্কের মাধুর্য কমে না।
প্রশ্ন: পূর্ণিমার দিনে কেন রাখি বাঁধা হয়?
উত্তর: শ্রাবণ পূর্ণিমা তিথি অত্যন্ত শুভ। এই দিনে সমুদ্র স্নান, দান ও ব্রতেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। তাই এই দিনেই রাখি বাঁধার রীতি চালু হয়েছে।
প্রশ্ন: বোন ছাড়া অন্য কেউ কি রাখি বাঁধতে পারে?
উত্তর: হ্যাঁ। অনেক সম্প্রদায়ে দিদি, মা বা বড় বোনও রাখি বাঁধেন। সম্পর্কের ভিত্তিতেই এটি নির্ধারিত হয়।



