শমীকের কড়া বার্তার পর অ্যাকশন, শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিজেপির ৪ নেতাকে শো–কজ়

পুরুলিয়ায় স্বাস্থ্য আধিকারিককে হেনস্থার অভিযোগে বিজেপির চার নেতাকে শো–কজ়, শমীক ভট্টাচার্যের বার্তা— শৃঙ্খলাভঙ্গ বরদাস্ত নয়।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক স্তরের পাশাপাশি এবার দলীয় সংগঠনেও শৃঙ্খলা ফেরানোর বার্তা দিল বিজেপি। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের কড়া অবস্থানের পর দলের চার নেতার বিরুদ্ধে শো–কজ় নোটিস জারি করা হয়েছে। অভিযোগ— সরকারি আধিকারিককে হেনস্থা, ভয় দেখানো এবং দলীয় আচরণবিধি লঙ্ঘন।

বিজেপির অন্দরেই এখন স্পষ্ট বার্তা— শুধুমাত্র সতর্কবার্তা নয়, প্রয়োজনে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রকাশ্যে বলে আসছিলেন, দলের নামে কোনও ধরনের ‘মাতব্বরি’ বা ক্ষমতার অপব্যবহার বরদাস্ত করা হবে না।

ঘটনার সূত্রপাত পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি ব্লকে। গত ১২ মে স্থানীয় ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিককে (বিএমওএইচ) হেনস্থার অভিযোগ ওঠে কয়েকজন বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা রাজনীতিতে বিতর্ক তৈরি হয়। পরে বিষয়টি রাজ্য নেতৃত্বের নজরে এলে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির মাধ্যমে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

রাজ্য বিজেপির তরফে অভিযুক্ত চার নেতাকে শো–কজ় নোটিস পাঠানো হয়েছে। নোটিস পেয়েছেন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সদস্য ও বাঘমুন্ডি ব্লক বিজেপির আহ্বায়ক রাকেশ মাহাতো, সহ-আহ্বায়ক বিজয়মোহন সিংহ, মণ্ডল সভাপতি অরুণচন্দ্র মাঝি এবং যুব মোর্চার সভাপতি মিঠুন কুমার।

দলীয় সূত্রে দাবি, অভিযোগের মধ্যে রয়েছে সরকারি কাজে বাধা, ভয় প্রদর্শন, অশালীন আচরণ এবং প্রশাসনিক কর্তাকে হেনস্থার মতো বিষয়। নোটিসে অভিযুক্তদের সাত দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। ততদিন তাঁদের দলীয় কার্যকলাপে অংশগ্রহণ সীমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই পদক্ষেপকে বিজেপির নতুন সাংগঠনিক অবস্থানের ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে। শমীক ভট্টাচার্য আগেই জানিয়েছিলেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনও প্রতিষ্ঠান দখল বা চাপ সৃষ্টি করা দলের নীতি নয়।

এদিন নদিয়ার কল্যাণী থেকেও তিনি দলীয় কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, কোনও নির্বাচিত প্রতিষ্ঠান জোর করে দখল করার চেষ্টা করলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিধায়ক হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি প্রতিহিংসার রাজনীতি বা জবরদখলের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।

দলীয় সূত্রে আরও জানা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর বা উত্তেজনামূলক ঘটনায় জড়িতদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আগামী দিনে সংগঠনের ভিতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আরও কড়া পদক্ষেপ হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

-Advertisement-

আরও খবর