নজরবন্দি ব্যুরোঃ পুলিশ ঠিকমতো তদন্ত করছে না। বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার বাড়িতে পোস্টারের ঘটনায় এমনটাই বিরক্ত প্রকাশ করল করলকাতা হাইকোর্ট। কার্যত ক্ষুব্ধ হয়ে বিচারপতি পুলিশকে বলেন, তদন্তের নামে আদালতের সঙ্গে লুকোচুরি খেলবেন না। তদন্ত শামুকের গতিতে হচ্ছে না ঘোড়ার গতিতে, সেটা আমরা দেখব। পুলিশকে সঠিক নাম দিন। একজনের পরিবর্তে আর একজনের নাম দেওয়া ঠিক হবে না।


একইসঙ্গে বিচারপতি কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে নির্দেশ দেন, পুলিশ যে ৬ জনের নাম জানিয়েছিল, আগামী শুনানির দিন ওই ৬ জনকে উপস্থিত করবে পুলিশ। একইসঙ্গে এজলাসের বাইরে যে সমস্ত আইনজীবীরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করতে হবে। পরবর্তী শুনানির দিন সেই ঘটনায় যুক্তদের নাম সিল কভারে বন্দি করে বিশেষ বেঞ্চের হাতে যেন তুলে দেন বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।

গত ৯ জানুয়ারি একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার এজলাসের বাইরে শুরু হয় বিক্ষোভ। এমনকি বিচারপতির বিরুদ্ধে হাইকোর্টের বাইরে এবং তাঁর বাড়ির সামনে পোস্টার লাগাতে দেখা যায়। পরে বিচারপতির বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে বয়কটের প্রস্তাব আনেন আইনজীবীরা। এমনকি আইনজীবীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে। সেই ঘটনায় আইনজীবীদের বিক্ষোভের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে আদালত অবমানার রুল জারি করেন বিচারপতি মান্থা।


আইনজীবীদের অভিযোগ ছিল, বারবার শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষে রায় দিচ্ছেন বিচারপতি। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মীয়দের বেলায় সেটা কেন নয়? কেন এক যাত্রায় পৃথক ফল হবে? সেই ঘটনায় কমিশনার অব পুলিশের তরফে একটি রিপোর্ট মুখবন্ধ খামে আদালতের কাছে একটি রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। আগামী শুনানির দিন সেটি খোলা হবে।
আদালতের সঙ্গে লুকোচুরি খেলবেন না, পুলিশকে ধমক বিচারপতির

সেই ঘটনায় তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল পাঠায় বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া। সেই দলে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রবীন্দ্রকুমার রাইজদা, এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি অশোক মেহতা এবং দিল্লি হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের কর্মসমিতির সদস্যা বন্দনা কৌর গ্রোভার।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



