বাংলায় বিজেপির নতুন সরকার গঠনের আগে রাজনৈতিক জল্পনা এখন তুঙ্গে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বে নতুন বিধায়কদের বৈঠকের আগে সবচেয়ে বেশি চর্চায় মুখ্যমন্ত্রীর নাম। তবে সেই সঙ্গে মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য সদস্যদের নিয়েও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। সেই তালিকায় অন্যতম নাম দিলীপ ঘোষ। খড়্গপুর সদর থেকে জয়ী এই বিজেপি নেতা শুক্রবার সকালে ইকো পার্কে মর্নিং ওয়াকে গিয়ে মন্ত্রিত্ব, দফতর বণ্টন থেকে শুরু করে সংখ্যালঘু উন্নয়ন— একাধিক ইস্যুতে মুখ খুললেন। আর সেখানেই তাঁর মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
দিলীপ ঘোষকে মন্ত্রী করা হতে পারে বলে জোর জল্পনা চলছে রাজনৈতিক মহলে। কোন দফতর পেতে চান— এই প্রশ্ন উঠতেই অবশ্য কৌশলী অবস্থান নেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “গোটা পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক উন্নয়ন দরকার। তাই সব দফতরই গুরুত্বপূর্ণ। কোন দায়িত্ব কে পাবেন, সেটা শীর্ষ নেতৃত্ব ঠিক করবে।”


নিজেকে দলের সাধারণ কর্মী বলেই তুলে ধরেন দিলীপ। তিনি বলেন, “আমাদের লড়তে বলা হয়েছিল। আমরা লড়েছি, জিতেছি। এখন আরও বড় মিশন সামনে। সবাইকে মিলে সেই মিশন সফল করতে হবে।”
তবে সংখ্যালঘু উন্নয়ন দফতর নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই অনেকটাই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন তিনি। বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, বিজেপি সংখ্যালঘু বিরোধী রাজনীতি করে। সেই প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ বলেন, “সংখ্যালঘুদের আবার কী উন্নয়ন হবে? গত ৮০ বছর ধরে তো ওদেরই উন্নয়ন হয়েছে।”
এখানেই থামেননি তিনি। আরও বলেন, “সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন করার কোনও দায় বিজেপির নেই। ওরা আমাদের ভোটও দেয় না।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে।


যদিও কিছুক্ষণ পরেই নিজের অবস্থান খানিকটা নরম করেন দিলীপ। তিনি দাবি করেন, বিজেপি সরকার কোনও ভেদাভেদ করবে না। তাঁর কথায়, “বাড়িঘর, সরকারি সুবিধা— সবই পাবে সবাই। মোদী সরকার আগেও দিয়েছে, আমরাও দেব।”
একইসঙ্গে আদিবাসী উন্নয়ন নিয়েও গুরুত্ব দেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “দেশে ১০ কোটির বেশি আদিবাসী মানুষ রয়েছেন। তাঁদের কথা কেউ ভাবে না। প্রথম অটল বিহারী বাজপেয়ী তাঁদের নিয়ে ভেবেছিলেন।”
ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়েও সরব হন তিনি। দিলীপের অভিযোগ, এখনও পুরনো সরকারের সংস্কৃতিই চলছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “এখনও পুলিশের ঘুম ভাঙেনি। চুরি হচ্ছে, হামলা হচ্ছে। নতুন সরকার শপথ নিলে সব বদলাবে। ৯ তারিখের পর পরিবর্তন দেখতে পাবেন।”
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি দিলীপ। মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, “এখন ওঁর বিধানসভায় বসার যোগ্যতাও নেই। কালীঘাটে বসে ঝালমুড়ি খাবেন।”
সব মিলিয়ে, মন্ত্রিত্ব নিয়ে জল্পনার মাঝেই দিলীপ ঘোষের একের পর এক মন্তব্য নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিল। নতুন সরকার গঠনের আগেই বিজেপির অন্দরের আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।







