কোভিড-পরবর্তী সময়ে বলিউডের বক্স অফিসে যখন টানা ধাক্কা, ঠিক সেই সময়েই দৃশ্যপট বদলে দিল রণবীর সিংয়ের ‘ধুরন্ধর’। আদিত্য ধর পরিচালিত এই অ্যাকশন-ড্রামা মুক্তির মাত্র তেরো দিনের মধ্যেই এমন এক নজির গড়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে বলিউডে অনুপস্থিত ছিল—নিরঙ্কুশ বক্স অফিস আধিপত্য।
দেশ-বিদেশ মিলিয়ে ছবিটির ব্যবসা ইতিমধ্যেই ছাড়িয়েছে ৬৭৪ কোটি টাকা। এর সঙ্গে সঙ্গেই ভেঙে পড়েছে এস এস রাজামৌলি পরিচালিত ‘বাহুবলী: দ্য বিগিনিং’-এর বিশ্বব্যাপী আয়ের রেকর্ড। এক সময় যে ‘বাহুবলী’ জাতীয় স্তরে ৪২১ কোটি ও বিশ্বব্যাপী ৬৫০ কোটি টাকার ব্যবসা করে মানদণ্ড স্থাপন করেছিল, ‘ধুরন্ধর’ তা ছাপিয়ে গিয়েছে অনেক কম সময়ে।

ভারত ও বিদেশ—দুই বাজারেই সমান দাপট
বক্স অফিস ট্র্যাকিং সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ‘ধুরন্ধর’-এর আয় এখন ৪৩৭ কোটি টাকারও বেশি। বিদেশের বাজার মিলিয়ে মোট সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৭৪.৫০ কোটি টাকা। প্রথম সপ্তাহেই দেশে ২০৭ কোটির বেশি আয় করে ছবিটি ইঙ্গিত দিয়েছিল, এই দৌড় থামার নয়। দ্বিতীয় সপ্তাহে আরও ২৩০ কোটি যোগ হওয়ায় ছবির গতি নিয়ে আর কোনও সন্দেহ থাকছে না।
দক্ষিণী আধিপত্যের বাজারে বলিউডের পাল্টা বার্তা
গত কয়েক বছরে দক্ষিণী সিনেমার একচেটিয়া আধিপত্যের মধ্যে ‘ধুরন্ধর’ কার্যত বলিউডের হয়ে জোরালো জবাব। আল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা’, শাহরুখ খানের ‘ডাঙ্কি’, হৃতিক রোশনের ‘ওয়ার’-এর মতো ছবির আয়ের রেকর্ড টপকে যাওয়ায় এই সাফল্য শুধু একটি ছবির নয়, বরং পুরো হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির আত্মবিশ্বাস ফেরার প্রতীক।

রণবীর সিংয়ের কেরিয়ারে ‘টার্নিং পয়েন্ট’
রণবীর সিংয়ের জন্য এই সাফল্যের তাৎপর্য আরও গভীর। ‘৮৩’, ‘সার্কাস’, ‘জয়েশভাই জোয়ারদার’-এর মতো ছবির ব্যর্থতার পর তাঁর কেরিয়ার গ্রাফ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’ মাঝারি সাফল্য পেলেও, তা ‘পাঠান’ বা ‘জওয়ান’-এর মতো ঝড় তুলতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে ‘ধুরন্ধর’ যেন অভিনেতার জন্য একেবারে নতুন অধ্যায়।
১০০০ কোটির ক্লাব—সময়ই এখন একমাত্র বাধা?
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান গতিবেগ বজায় থাকলে ‘ধুরন্ধর’-এর পক্ষে ১০০০ কোটির ক্লাবে ঢোকা অসম্ভব নয়। স্যাকনিকের সাম্প্রতিক রিপোর্টে, সর্বোচ্চ আয় করা ভারতীয় ছবির তালিকায় ‘অ্যানিম্যাল’-এর পরেই জায়গা করে নিয়েছে ‘ধুরন্ধর’। প্রশ্ন একটাই—৯১৫ কোটির ‘অ্যানিম্যাল’-এর রেকর্ড কি এবার ভাঙতে চলেছে?
উত্তর দেবে বক্স অফিসই। তবে এটুকু স্পষ্ট, বহুদিন পর বলিউড পেল এমন এক ছবি, যা শুধু সংখ্যা নয়, আত্মবিশ্বাসও ফিরিয়ে দিল।



