আরজি কর কাণ্ডের পর রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রতিবাদের জেরে কাজ হারানোর অভিযোগ তুলেছিলেন বহু শিল্পী। রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই বিতর্ক ফের সামনে এল। অভিনেত্রী সোহিনী সরকার এবং সঙ্গীতশিল্পী লগ্নজিতা চক্রবর্তী এবার প্রকাশ্যে জানালেন, দীর্ঘদিন তাঁরা কার্যত কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন বলে তাঁদের অভিজ্ঞতা।
বাংলা চলচ্চিত্র ও বিনোদন জগতের সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছে শিল্পীদের ‘বয়কট’ বিতর্ক। একসময় টলিউডে প্রভাবশালী বলে পরিচিত স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার হওয়ার পর এবং রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাওয়ার পর শিল্পীদের একাংশ আগের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে শুরু করেছেন।
সেই তালিকায় রয়েছেন সোহিনী সরকার ও লগ্নজিতা চক্রবর্তী। অভিযোগ, আরজি কর কাণ্ডের পর যে শিল্পীরা প্রকাশ্যে প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন, তাঁদের অনেককেই বিভিন্ন কাজ থেকে দূরে রাখা হয়েছিল। ফলে বহু শিল্পীর পেশাগত জীবন বড় ধাক্কার মুখে পড়ে।
লগ্নজিতা চক্রবর্তীর দাবি, তাঁকে কার্যত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, প্রকাশ্য সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে এমন বার্তা দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
অন্যদিকে সোহিনী সরকার জানিয়েছেন, প্রতিবাদে সামিল হলে তার কিছু প্রভাব পড়তে পারে, সেটা তিনি আগেই অনুমান করেছিলেন। তবে সেই অবস্থানের কারণে পেশাগত ক্ষেত্রেও এতটা প্রভাব পড়বে, তা তিনি কল্পনা করেননি।
রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিল্পীদের কাজের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা বয়কটের সংস্কৃতি বরদাস্ত করা হবে না বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে। সেই আবহেই ধীরে ধীরে কাজের জগতে ফিরছেন বলে জানিয়েছেন সোহিনী ও লগ্নজিতারা।
তাঁদের আশা, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক মত বা ব্যক্তিগত অবস্থানের ভিত্তিতে নয়, শিল্পী হিসেবে তাঁদের কাজই হবে মূল্যায়নের প্রধান মাপকাঠি। সেই প্রত্যাশা নিয়েই নতুন অধ্যায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।



