ফের একবার মঞ্চে শিল্পীর স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্কে উত্তাল বাংলা। কয়েক দিনের ব্যবধানে লগ্নজিতা চক্রবর্তীর ঘটনার পর এবার একই ধরনের অভিযোগ সামনে আনলেন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী মধুবন্তী মুখোপাধ্যায়। ঘটনাস্থল নদিয়ার মাজদিয়া, যেখানে একটি লোকসংগীত অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়েই চরম অস্বস্তির মুখে পড়েন তিনি।
মধুবন্তীর দাবি অনুযায়ী, মাজদিয়া কৃষ্ণগঞ্জ লালন উৎসবে লোকসঙ্গীত পরিবেশনের জন্য তাঁর সঙ্গে আগেই যোগাযোগ করা হয়েছিল। ২১ ডিসেম্বর মঞ্চে ওঠার পর তিনি ‘তোমরা কুঞ্জ সাজাও গো’ গানটি পরিবেশন করেন। গান শেষ হতেই আচমকা পরিস্থিতি বদলে যায়।
শিল্পীর অভিযোগ, দর্শকাসন থেকে কয়েকজন মঞ্চে উঠে এসে তাঁর হাত থেকে মাইক্রোফোন কেড়ে নেন। একই সঙ্গে বলা হয়, “এই ধরনের গান চলবে না”, এবং ‘ধর্মের গান’ গাওয়া যাবে না বলেও আপত্তি তোলা হয়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই অনুষ্ঠানের আয়োজকেরা হস্তক্ষেপ করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনার পর মধুবন্তী সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে লেখেন, দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনে এমন ঘটনার মুখোমুখি তাঁকে কখনও হতে হয়নি। তাঁর বক্তব্য, প্রতিটি শিল্পীর নিজের শিল্পচর্চার স্বাধীনতা থাকা উচিত।
এই পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই নেটমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—একই ধরনের অভিযোগ বারবার কেন উঠে আসছে? শিল্পীদের মঞ্চে নিরাপত্তা এবং সৃজনশীল স্বাধীনতা নিয়েই বা কী বার্তা যাচ্ছে?
উল্লেখযোগ্য ভাবে, এর আগে পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরে একটি স্কুল অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়ে হেনস্তার অভিযোগ তুলেছিলেন লগ্নজিতা চক্রবর্তী। সেই অনুষ্ঠানে ‘জাগো মা’ গান শুরু করতেই আপত্তি তোলার অভিযোগ ওঠে স্কুলের অন্যতম মালিক মেহবুব মালিক-এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তিনি মঞ্চে উঠে শিল্পীকে মারধরের চেষ্টা করেন। পরে ভগবানপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পরপর দুই ঘটনার প্রেক্ষিতে শিল্পী সমাজের একাংশ বলছে, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পীর স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন ও আয়োজকদের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন—এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে আগাম ব্যবস্থা কতটা নেওয়া হচ্ছে?



