সঙ্গীতশিল্পী **লগ্নজিতা চক্রবর্তী**কে হেনস্থার অভিযোগে ধৃত মেহবুব মল্লিককে চার দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিল কাঁথি আদালত। সোমবার আদালতের এই নির্দেশের পর পুলিশ জানিয়েছে, হেফাজতে নিয়ে অভিযুক্তকে জেরা করে ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।
ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মিতুনকুমার দে জানান, ভগবানপুরের ঘটনার প্রেক্ষিতে ধৃতের সাত দিনের পুলিশ হেফাজত চাওয়া হয়েছিল। আদালত চার দিনের অনুমতি দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই ঘটনার নেপথ্যের কারণ, অভিযুক্তের ভূমিকা এবং সম্ভাব্য অন্যান্য দিক তদন্ত করে দেখা হবে।
ঘটনার সূত্রপাত গত শনিবার। পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরের একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়েছিলেন লগ্নজিতা। অভিযোগ, ‘জাগো মা’ গান পরিবেশনের পরেই স্কুলের মালিক মেহবুব মল্লিক মঞ্চে উঠে শিল্পীকে হুমকি দেন এবং মারতে উদ্যত হন। তিনি ‘সেকুলার গান’ গাওয়ার নির্দেশও দেন বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার পরেই ভগবানপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন লগ্নজিতা। তার ভিত্তিতেই রবিবার মেহবুবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত কেন এমন আচরণ করলেন এবং এর পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা জানতে জেরা করা হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মেহবুব মল্লিক শুধু স্কুল-মালিকই নন, পরচুলের ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত। বিদেশে রফতানি হওয়া ওই ব্যবসার আর্থিক দিকও তদন্তের আওতায় আসতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
এর আগে সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে লগ্নজিতা জানান, অভিযুক্ত আচমকাই মঞ্চে উঠে তাঁর সামনে চলে আসেন এবং আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকজন তাঁকে সরিয়ে নেন। সেই মুহূর্তে দর্শকদের সামনে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ঘটনার পরে আর অনুষ্ঠান চালানো তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
তবে এই ঘটনার জেরে তিনি দমে যাবেন না, তা-ও স্পষ্ট করেছেন শিল্পী। সামনে আরামবাগে নির্ধারিত অনুষ্ঠানে তিনি আবারও ‘জাগো মা’ গান পরিবেশন করবেন বলে জানিয়েছেন।



