অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর প্রায় আড়াই মাস পর তদন্তে এল বড় মোড়। দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন এবং বিতর্কের আবহে এবার ঘটনাটির তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর এই মন্তব্যের পর ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে রাহুলের মৃত্যুরহস্য।
গত ২৯ মার্চ ওড়িশার তালসারিতে একটি বাংলা ধারাবাহিকের শুটিং চলাকালীন জলে ডুবে মৃত্যু হয় রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিংয়ের সময় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ঘিরে প্রথম থেকেই একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিতদের বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে কি না—এসব নিয়েই তৈরি হয় বিতর্ক।
তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়েই ইউনিটের সদস্যদের বয়ান এবং পুলিশের হাতে আসা কিছু ফুটেজের মধ্যে অসামঞ্জস্য ধরা পড়েছিল বলে জানা যায়। সেই কারণেই অভিনেতার মৃত্যু ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়। সময়ের সঙ্গে বিষয়টি কিছুটা আড়ালে চলে গেলেও পরিবার এবং বিভিন্ন সংগঠনের তরফে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি অব্যাহত ছিল।
সম্প্রতি দিঘা-শংকরপুর উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, অভিনেতার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওড়িশা পুলিশ একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। তবে তিনি রাজ্যের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেবেন যাতে বিষয়টি মুখ্যসচিবের কাছে পাঠানো হয় এবং সিআইডিকে তদন্তভার দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল। কারণ দীর্ঘদিন ধরে রাহুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং দায় নির্ধারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছিল।
রাহুলের মৃত্যুর পর চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও সরব হয়েছিল বিভিন্ন সংগঠন। বিশেষ করে অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন শুটিং সেটে শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সরব হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, নিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হলে এই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতে পারত।
এছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি তোলা হয়েছিল। অভিনেতার পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ, দায়ীদের বিরুদ্ধে এফআইআর এবং ফৌজদারি মামলা দায়েরের মতো দাবিও সামনে আসে। সংগঠনের বক্তব্য ছিল, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন যাতে ভবিষ্যতে কোনও শিল্পী বা কলাকুশলীকে একই ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়তে না হয়।
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর তদন্ত সিআইডির হাতে গেলে নতুন করে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পরিবারের দীর্ঘদিনের প্রশ্নের উত্তর এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের আশা আরও জোরালো হল এই ঘোষণার পর।
এখন নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। সিআইডি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তভার গ্রহণ করলে এই বহুচর্চিত মামলায় নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই আশা করছেন রাহুলের অনুরাগী থেকে শুরু করে বিনোদন জগতের একাংশ।



