নজরবন্দি ব্যুরোঃ ধনখড় জানতেন মমতা যাবেন না ইয়াস বৈঠকে! আর এবার সেকথা জানিয়ে বিস্ফোরক ট্যুইট করেছেন খোদ রাজ্যপাল। গত কদিন ধরে শুধু দেশ নয় কেন্দ্রের রাজনীতিতেও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলায় ইয়াস ক্ষয়ক্ষতি বিচারে দেশের প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে এলেও তা এড়িয়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুনঃ ৫ই জুন তৃণমূল ভবনে জরুরী মিটিং ডাকলেন মমতা, এবার তৃণমূলে এক ব্যক্তি এক পদ?
ঘটনার দিন থেকেই বিজেপির প্রথম সারির নেতা মন্ত্রীরা বিষয়টি নিয়ে ট্যুইটের পর ট্যুইট করতে থাকেন। তবে পরের দিন মমতা নবান্নতে বৈঠক করে জানান বিজেপি নেতারা লাগাতার ভুল খবর খাওয়াচ্ছে সংবাদ মাধ্যমকে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন মোদি-শাহরা একতরফা তাঁকে অপমান করছেন।
তাঁর মতে আগে রাজ্যের পরিকল্পনা জানানো হয়েছিলো, পরে সেই দিনেই প্রধানমন্ত্রী আসায় তিনি বাধ্য হয়ে নিজের প্ল্যান কাটছাঁট করেছিলেন, সঙ্গে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর কপ্টার নামবে বলে আমাদের কপ্টার ২০ মিনিট আকাশে চক্কর কাটে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মাত্র ১ মিনিটের জন্য দেখা করতে চাওয়ায় তাঁর এসপিজি জবাব দেন, ‘এক ঘণ্টা পর বলুন। এখন কিছু হবে না।’ আমাদের বসিয়ে রাখা হয়েছিল ওখানে।’’ তিনি আরও যোগ করেন আবহাওয়া খারাপ থাকায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুমতি নিয়েই দিঘার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন তিনি, তার পরেই অসত্য তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে, মিথ্যে রটনা ছড়ানো হচ্ছে সর্বত্র।

তবে গতকাল আলাপন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে তিনি সাফ জানিয়েছেন তাঁর বৈঠকে না থাকার অন্যতম কারণ শুভেন্দুর উপস্থিতিও। প্রসঙ্গত শুভেন্দু উপস্থিত থাকবে জানার পরেই বৈঠকে না করেছিলেন মমতা। এসবের মধ্যেই ট্যুইট করে ফের বিতর্ক বাড়িয়েছেন রাজ্যের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। তিনি ট্যুইটে জানিয়েছেন ইয়াস বৈঠকে উপস্থিত না থাকার কারণ হিসেবে ভুল তথ্য দিচ্ছেন মমতা। ২৭ তারিখ রাতে মুখ্যমন্ত্রী ফোন করেন তাঁকে। এবং সেখানেই শুভেন্দু উপস্থিত থাকলে তিনি বৈঠকে থাকবেন না সেই মনোভাব প্রকাশ করেন, ও তার পর ২৮ তারিখে বয়কট করেন বৈঠক।

ট্যুইটে তিনি লিখেছেন, ‘‘ঘটনার যে ভুল বর্ণনা দেওয়া হচ্ছে, সেই কারণেই আমি জানিয়ে রাখতে চাই, গত ২৭ মে রাত ১১টা ১৬ মিনিটে মমতা ব্যানার্জি আমায় একটি মেসেজ করেছিলেন। সেখানে লেখা ছিল ‘আপনার সঙ্গে কথা বলতে পারি? খুব জরুরি’। তার পরই উনি আমায় ফোন করে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ওই বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী থাকলে তিনি বৈঠক বয়কট করবেন।’’ ্ট্যুইটের শেষে তিনি লেখেন “অহং জিতল, পরাজিত নাগরিক পরিষেবা….”
ধনখড় জানতেন মমতা যাবেন না ইয়াস বৈঠকে! সঙ্গে অপর এক ট্যুইটে প্রাক্তন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দোপাধ্যায়কে নিশানা করে লেখেন,‘দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর দীর্ঘ ইতিহাসে ২৮ মে দিনটি ‘কালো দিন’ হিসেবে ইতিহাসের পাতায় থেকে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর পর্যালোচনা বৈঠকে ধ্বংস হয়েছে দেশের গণতন্ত্র’। এদিকে অই বৈঠকে আলাপন উপস্থিত না থাকার জের হিসেবেই রাতারাতি তাঁর বদলির নির্দেশ এসেছিল বলেও মনে করছেন অনেকে। যদিও দিল্লিতে কাজে যোগ না দিয়ে গতকালই পদত্যাগ করেছেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং তার পরই আগামী তিন বছরের জন্য বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে তাঁকে নিযুক্ত করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।



