তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদদের একাংশকে ঘিরে দলবদলের জল্পনা যখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে, তখনই কোলাঘাটের প্রশাসনিক বৈঠকে দেখা গেল একাধিক আলোচিত সাংসদকে। ঘাটালের সাংসদ দেব ওরফে দীপক অধিকারী এবং মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়ার উপস্থিতি নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা উসকে দিয়েছে। বিশেষ করে দেবের মূল মঞ্চে বসা নিয়ে জল্পনা আরও জোরদার হয়েছে।
সোমবার থেকেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছিল যে তৃণমূলের একাধিক সাংসদ এনডিএ-তে যোগদানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সেই তালিকায় অভিনেতা-সাংসদ দেবের নামও উঠে আসে বলে রাজনৈতিক সূত্রে দাবি। যদিও এ বিষয়ে দেবের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।
এই আবহেই মঙ্গলবার পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম জেলার প্রশাসনিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় কোলাঘাটের বলাকা মঞ্চে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari। জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত ছিলেন সাংসদ ও বিধায়কেরাও।
বেলা প্রায় ১২টা ৩ মিনিট নাগাদ সভাস্থলে পৌঁছন Dev। তিনি কিছুটা দেরিতে এলেও সরাসরি মূল মঞ্চে গিয়ে আসন গ্রহণ করেন। তাঁর উপস্থিতি ঘিরে সভাস্থলে বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন June Malia-সহ একাধিক জনপ্রতিনিধি। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দুই সাংসদ এবং দুই বিধায়কও বৈঠকে যোগ দেন। প্রশাসনিক আলোচনার পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও এই উপস্থিতিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
মূল মঞ্চে দেব ও জুন মালিয়ার পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন Soumendu Adhikari এবং Abhijit Gangopadhyay। ফলে বৈঠকের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।
উল্লেখ্য, রাজনীতিতে আসার আগে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ ছিলেন দেব। তৃণমূল নেত্রী Mamata Banerjee-র হাত ধরেই তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু। ঘাটাল কেন্দ্র থেকে একাধিকবার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে দেব জানিয়েছিলেন, তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবছেন। তবে পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের পর সেই সিদ্ধান্ত বদলান। এমনকি নির্বাচনী প্রচারে ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান’ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও সামনে আনা হয়েছিল।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কোলাঘাটের প্রশাসনিক সভায় দেব ও জুন মালিয়ার উপস্থিতি নিছক প্রশাসনিক কর্মসূচি, নাকি এর পিছনে রয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা— তা নিয়ে এখন জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট সাংসদদের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করা হয়নি।



