চার বছর কেটে গেলেও সুশান্ত সিং রাজপুতের (Sushant Singh Rajput) ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের (Disha Salian) রহস্যমৃত্যু নিয়ে বিতর্ক শেষ হয়নি। ২০২০ সালের ৮ জুন মুম্বাইয়ের মালাডের একটি ১৪ তলা বিল্ডিং থেকে পড়ে মৃত্যু হয় দিশার। মাত্র ছয় দিন পরই, ১৪ জুন বান্দ্রার ফ্ল্যাটে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় সুশান্তকে।
দু’টি আকস্মিক মৃত্যু বলিউড থেকে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল। যদিও তদন্ত শেষে সিবিআই জানিয়েছিল, দু’জনেই আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু দিশার বাবা সতীশ সালিয়ান এবং সুশান্তের তুতো ভাই নীরজকুমার সিং বাবলু নতুন করে তদন্তের দাবি তুলেছেন।


নতুন করে তদন্তের দাবি, কারা অভিযুক্ত?
দিশার বাবা সতীশ সালিয়ান দাবি করেছেন, তাঁর মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, যদি কেউ ১৪ তলা থেকে পড়ে, তাহলে মাথার খুলিতে আঘাত লাগার কথা, শরীরে রক্তপাত হওয়ার কথা। কিন্তু দিশার শরীরে সেই চিহ্ন নেই।
তার আইনজীবী নীলেশ ওঝা মুম্বই পুলিশ কমিশনারের অফিসে গিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং একাধিক রাজনীতিবিদ ও বলিউড তারকার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন:


আদিত্য ঠাকরে (Aditya Thackeray) – মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ছেলে এবং তৎকালীন মন্ত্রী।
রিয়া চক্রবর্তী (Rhea Chakraborty) – সুশান্তের প্রেমিকা ও বলিউড অভিনেত্রী।
দিনো মোরিয়া (Dino Morea) এবং সুরজ পাঞ্চোলি (Sooraj Pancholi) – বলিউড অভিনেতা।
সচিন ভাজে – প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তা, যিনি আগে মুম্বই পুলিশের বিশেষ দায়িত্বে ছিলেন।
পরমবীর সিং (Param Bir Singh) – মুম্বইয়ের প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার, যিনি তদন্ত প্রভাবিত করার অভিযোগে অভিযুক্ত।
সুশান্ত ও দিশার মৃত্যুতে যোগসূত্র?
বিজেপি বিধায়ক নারায়ণ রাণে (Narayan Rane) দাবি করেছেন, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে (Uddhav Thackeray) তাঁকে ফোন করে বলেছিলেন, যেন আদিত্য ঠাকরের নাম এই মামলায় না জড়ানো হয়।
নারায়ণ রাণে আরও বলেন, “আমি কারও নাম নিইনি, শুধু বলেছি এক মন্ত্রী জড়িত।” উল্লেখ্য, ২০২০ সালে আদিত্য ঠাকরে একজন মন্ত্রী ছিলেন, ফলে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
তদন্তের জন্য বিশেষ কমিটির দাবি
নতুন করে এসআইটি (SIT) বা বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন দিশার পরিবারের আইনজীবী। তদন্তের জন্য নতুন করে মুম্বই থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে। দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পরিবার এবং সমর্থকরা চাইছেন, সত্য যেন প্রকাশ্যে আসে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।







