রবিবার ভোরে ঘুমন্ত শহরকে নাড়িয়ে দিল ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। দিল্লির বিবেক বিহারের একটি বহুতলে আচমকা আগুন ছড়িয়ে পড়ে, প্রাণ হারান অন্তত ৯ জন। বিস্ফোরণের শব্দ, দ্রুত ছড়ানো আগুন আর উদ্ধার অভিযানে দমকলের দৌড়—সব মিলিয়ে আতঙ্কের ছবি রাজধানীতে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভোরের দিকে আচমকা আগুন লাগে বহুতলের তৃতীয় তলায়। সেই সময় অধিকাংশ বাসিন্দাই ঘুমিয়ে ছিলেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই আটকে পড়েন ভিতরে। স্থানীয়দের তৎপরতায় বেশ কয়েকজনকে দ্রুত বাইরে বের করে আনা সম্ভব হলেও, সবাইকে বাঁচানো যায়নি।


পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, কারণ এখনও কয়েকজন নিখোঁজ বলে দাবি স্থানীয়দের।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দিল্লি দমকল। প্রথমে কয়েকটি ইঞ্জিন আগুন নেভানোর কাজ শুরু করলেও আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পরে মোট ১৪টি দমকল ইঞ্জিন নামানো হয়। প্রায় দু’ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। সকাল প্রায় ৬টা নাগাদ পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুন লাগার আগে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রাথমিক ভাবে অনুমান, এসি বা বৈদ্যুতিক যন্ত্রের বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। যদিও সঠিক কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।


উদ্ধারকাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি। দমকলকর্মীরা খতিয়ে দেখছেন, ভবনের ভিতরে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না। ঘটনাস্থলে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা।
সহদরার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার রাজেন্দ্রপ্রসাদ মীনা জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দমকল ও পুলিশ উদ্ধারকাজ শুরু করে। এখন প্রধান লক্ষ্য—সম্ভাব্য আটকে পড়া বাসিন্দাদের দ্রুত উদ্ধার এবং আগুনের কারণ নির্ণয়।
রাজধানীর বুকে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলছে বহুতলের অগ্নি-নিরাপত্তা নিয়ে।







