ফলতা বিধানসভায় নজিরবিহীন পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনীতিতে তীব্র চাপানউতোর। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে জানালেন—বাইরের শক্তি এনে দিলেও বাংলার ভোটে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ ভাঙা যাবে না। কমিশনের সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই দাবি শাসকদলের।
ছাব্বিশের বঙ্গভোটে এক ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে গত ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের দিন অশান্তি ও কারচুপির অভিযোগ ওঠায় গোটা কেন্দ্রেই পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ২১ মে ফের ভোট, আর গণনা ও ফলপ্রকাশ ২৪ মে।


এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্যে আক্রমণের সুর স্পষ্ট—বাংলা বিরোধী শক্তি ও তাদের সহযোগীরা বহু চেষ্টা করেও ডায়মন্ড হারবার মডেলের মোকাবিলা করতে পারবে না। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “যত শক্তি আছে নিয়ে আসুন, সাহস থাকলে ময়দানে লড়াই করুন।”
কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ‘অভূতপূর্ব’ বলেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু বুথে পুনর্নির্বাচন দেখা গেলেও, গোটা বিধানসভা কেন্দ্রে ফের ভোটের নজির সাম্প্রতিক অতীতে খুবই বিরল। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে স্পষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।
এদিকে, তৃণমূল প্রার্থী ও দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষও ভিডিও বার্তায় কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর কটাক্ষ, ভোটের দিন এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ না নিয়ে তিন দিন পর হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত কেন? পাশাপাশি, ভোটের দিন দায়িত্বে থাকা পুলিশ পর্যবেক্ষকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।


কুণাল ঘোষের বক্তব্যে আরও একধাপ এগিয়ে দাবি করা হয়—এত বিপুল বাহিনী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও যদি অনিয়ম ধরা না পড়ে, তবে দায় কার? তাঁর অভিযোগ, এই পুনর্নির্বাচন ঘোষণার সময়ই রাজ্যে সরকার গঠনের চিত্র প্রায় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, যেখানে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলেরই প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত।
সব মিলিয়ে ফলতার পুনর্নির্বাচন এখন শুধু ভোটযুদ্ধ নয়, রাজনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধের মঞ্চ—এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।







