নজরবন্দি ব্যুরোঃ ক্লান্তিহীন কান্তি বুড়ো ভাবাচ্ছে, আসলে ভাবনটা যার ভাবার কথা ছিল আমফান বা লকডাউন পরবর্তী পরিস্থিতিতে তাঁকে সেভাবে নয় আসলে কোনভাবেই পাননি রায়দিঘির আমজনতা। অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়, তাঁদের বিধায়িকা। কিন্তু আমফানের ঝড়ে হোক বা লকডাউনের আর্তনাদে তাঁর দেখা বা সাহায্য তেমনভাবে পৌঁছায় নি সাধারণ মানুষের কাছে। বরং যিনি পরাজিত সেই কান্তি গাঙ্গুলী ক্লান্তিহীন ভাবে আমফানের ঝড় উপেক্ষা করে আর লকডাউনের ভুখা আর্তনাদে প্রলেপ লাগাতে পৌঁছে গিয়েছিলেন।
আরও পড়ুনঃ বিপদ থেকে বাঁচতে, হাত হাতুড়ি কাস্তের পক্ষে সোচ্চার সব্যসাচী-রাহুল, শ্রীলেখারা।


সেই দৃশ্য কমবেশি মনে আছে সবার। ধুতিটাকে ধরে মাথায় ছাতা নিয়ে অনুচর আর সিপিআইএম সমর্থক সাথে চাল ডাল ঔষধ তরিতরকারি নিয়ে এলাকায় পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। কোন দল বা প্রতীক দেখে নয় সবার কাছেই পৌঁছেছিলেন কান্তি। আর বন্যা হোক বা বাঁধভাঙা সবেতেই রায়দিঘির জনগন ভরসা করেন কান্তিকে। যদিও ভোট পান দেবশ্রী। কিন্তু এবারে সাথে নেই শোভন, আর শুধু নেই নয় যেখানে আছেন সেটা বিজেপি! এই মুহুর্তে তৃণমূলের ১ নং প্রতিপক্ষ।
অর্থাৎ একে এলাকায় যাননি তাঁর ওপর প্রতিপক্ষ শোভন আর অকৃতদার কান্তি বুড়ো কম্বিনেশনে হেরে যাওয়ার আতঙ্কে ভুগছেন দেবশ্রী রায়। তার ওপর রয়েছে দূর্নীতির অভিযোগ। বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, রায়দিঘিতে আর লড়তে চাননা তিনি। তবে রাজনৈতিক লড়াইতে যে অবশ্যই থাকবেন তা স্পষ্ট করে দেবশ্রীর ব্যাখ্যা, “রাজনীতির ময়দানে আবার দেখা হবে।”
উল্লেখ্য, রায়দিঘি কেন্দ্র থেকে ২বার নির্বাচিত হয়েছেন দেবশ্রী রায়। তবে গত কয়েক বছর ধরে নিজের এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তা এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে একাধিকবার। যার মধ্যে টোটো দুর্নীতি অন্যতম। সবথেকে বড়কথা, এর আগে একবার দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে বিধায়ক দেবশ্রী রায় এমন এক সমস্যার প্রতিকার চান, যার সমাধান আগেই করে দিয়েছিল প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী বিধায়িকা দেবশ্রী কে সেই প্রসঙ্গে নিজে বলেছিলেন, “বিধায়িকা যেন নিজের এলাকা সম্পর্কে খোঁজ খবর রাখেন।”


অন্যদিকে আয়লা, বুলবুল, আমফান ঝড়ের নাম যাই হোন না কেন ভোটে হেরে গিয়েও শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা যাকে রাজদিঘির আমজনতা দেখতে পান তাঁর নাম কান্তি গাঙ্গুলী। ৭৬ বছরের ক্লান্তিহীন কান্তি গাঙ্গুলি।







