বকেয়া DA নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান কি এবার? সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই সম্পূর্ণ বকেয়া মেটানোর পথে হাঁটতে পারে রাজ্য—এমনটাই প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত।
গত সপ্তাহে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বকেয়া মহার্ঘভাতা সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে পরবর্তী বৈঠকে। সেই বৈঠকই বসতে চলেছে আগামী সোমবার সকাল ১১টায়, নবান্নে।


প্রশাসনিক মহলের খবর, দ্বিতীয় বৈঠকেই বড় ঘোষণা আসতে পারে। বিশেষ করে বকেয়া DA মেটানোর বিষয়ে সরকার এককালীন নিষ্পত্তির পথে হাঁটতে পারে বলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারকে বকেয়া DA মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়। তবে সেই সময়ের মধ্যে আগের সরকার সম্পূর্ণ বকেয়া মেটাতে পারেনি।
যদিও ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের একটি অংশের বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছিল, কিন্তু ২০০৮ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত বিপুল অঙ্কের DA এখনও বাকি রয়ে যায়। এই ইস্যুর রাজনৈতিক প্রভাবও পড়েছিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা—বিশেষ করে পোস্টাল ব্যালটের ফলাফলে তার প্রতিফলন দেখা গিয়েছিল।


এই পরিস্থিতিতে নতুন সরকার কর্মচারীদের আস্থা ফিরে পেতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে। সূত্রের দাবি, ধাপে ধাপে নয়, একবারেই সম্পূর্ণ বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
গত ৬ মে সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানি ছিল। তার আগেই রাজ্যের তরফে তিন সপ্তাহের সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। কর্মচারী সংগঠনগুলির মতে, সরকার ইতিমধ্যেই বকেয়া মেটানোর পথে এগোচ্ছে বলেই এই সময় চাওয়া হয়েছে।
ডিএ মামলার অন্যতম সংগঠন ‘কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ’-এর সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়ও ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাজ্য পুরো বকেয়া মিটিয়েই আদালতে হাজির হতে চাইছে।
বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যের DA-র ব্যবধান প্রায় ৪২ শতাংশ। এমনকি বাজেটে ঘোষিত ৪ শতাংশ DA-ও আগের সরকার দিতে পারেনি। ফলে এই অতিরিক্ত অংশ নিয়ে নতুন সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা নিয়েও নজর রয়েছে।
এদিকে, সোমবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর ব্যস্ত কর্মসূচিও রয়েছে। দুপুরে বিএসএফ-এর সঙ্গে বৈঠক, বিকেলে কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা এবং এরপর উত্তরবঙ্গ সফর—সব মিলিয়ে প্রশাসনিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহ হতে চলেছে।
সব মিলিয়ে, সোমবারের বৈঠক শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। বকেয়া DA নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই এখন রাজ্যের লক্ষাধিক কর্মচারীর নজরে।







