গুমোট গরমে হাঁসফাঁস করছে বাংলা। তার মধ্যেই স্বস্তির খবর দিল আবহাওয়া দফতর। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করেছে ভারতীয় আবহাওয়া দফতর। অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে আগামী কয়েকদিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আন্দামানে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশের পরই বাংলার আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
ভারতের মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ইতিমধ্যেই আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের বিস্তীর্ণ অংশে প্রবেশ করেছে। আন্দামানের শ্রী বিজয়পুরমে বর্ষার আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটেছে বলেও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব আরব সাগর এবং দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের বেশ কিছু অংশও এখন মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী ২৬ মে কেরল উপকূলে বর্ষা ঢুকতে পারে। তার আগেই বাংলার আবহাওয়ায় বর্ষার প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে আগামী কয়েকদিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
রবিবার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি হয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং ও কোচবিহারেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দার্জিলিং থেকে মালদহ পর্যন্ত প্রায় সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
সোমবারও উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ জেলায় বৃষ্টি চলবে। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারে বিক্ষিপ্ত ভারী বৃষ্টি হতে পারে। মঙ্গলবার কিছুটা বিরতি মিললেও বুধবার ফের ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
দক্ষিণবঙ্গেও রবিবার ও সোমবার বিক্ষিপ্ত ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে পুরুলিয়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, ঝাড়গ্রাম, উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। সোমবার নদিয়া, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর ২৪ পরগনায় ঝড়-বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস।
তবে কলকাতার বাসিন্দাদের জন্য আপাতত স্বস্তির খবর কম। শহরে বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম বলেই জানিয়েছে হাওয়া অফিস। সকাল থেকেই তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। ফলে গুমোট গরম এবং অস্বস্তিকর আবহাওয়া আরও কয়েকদিন বজায় থাকবে বলেই ইঙ্গিত আবহবিদদের।



