ভুয়ো টিকার পর ভ্যাক্সিনের আড়ালে ‘স্বেচ্ছায়’ কাটমানি, সিন্ডিকেট! বিস্ফোরক অভিযোগ

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কুশল দাসগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ ভুয়ো টিকার পর ভ্যাক্সিনের আড়ালে ‘স্বেচ্ছায়’ কাটমানি, সিন্ডিকেট! বিস্ফোরক অভিযোগ উঠল শিলিগুড়িতে। মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ‘স্বেচ্ছায়’ ৩১৫ টাকা দিলে তবেই মিলছে টিকা, অভিযোগ উঠেছে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দফতরের বিরুদ্ধে। নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটেছে শিলিগুড়িতে। অভিযোগ টিকা দিতে গেলে দিতে হচ্ছে টাকা। সাধারণত, ত্রাণ তহবিলে নিজের ইচ্ছায় টাকা দেন জনগন। সেই টাকা ব্যবহৃত হয় জনস্বার্থেই। কিন্তু ৩১৫ টাকা স্বেচ্ছায় দান না করলে টিকা মিলবে না এই ঘটনা দেশে নজিরবিহীন। আর তা নিয়েই শিলিগুড়ি ঠেকে সুর চড়ালেন দিলীপ ঘোষ।

আরও পড়ুনঃ দলীয় নেতাকে ধাক্কা রাজ্য বিজেপির দপ্তরে! ইমেলে নালিশ গেলো নাড্ডার কাছে

ভুয়ো ভ্যাকসিনকাণ্ড নিয়ে যখন চরমে উঠেছে রাজনৈতিক চাপানউতর, তখন টাকা নিয়ে টিকাকরণের অভিযোগ তুলেছে একাধিক সংগঠন। ভুয়ো টিকার পর ভ্যাক্সিনের আড়ালে ‘স্বেচ্ছায়’ কাটমানি, সিন্ডিকেট!  এদিন দিলীপ ঘোষ বলেন, “রাজ্যে ভ্যাকসিন নিয়ে সিণ্ডিকেট চলছে।কাটমানি পাওয়া যাচ্ছে। সেই কাটমানি কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি কোথাও বন্ধ নেই।” নর্থ বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিস আস্যোশিয়েশন নামের একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের সম্পাদক সুরজিৎ পাল এই অভিযোগ সামনে এনেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের স্বেচ্ছায় টিকা পিছু ৩১৫টাকা টাকা জমা দিতে বলা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে। মোট পাঁচশ জন কর্মীর জন্য টাকা জমা দিয়েছি।”

সুরজিতের দাবি, “মুখ্যমন্ত্রীর তহবিলে টাকা দেওয়ার পরেই কারখানার শ্রমিকদের টিকা দেওয়া হয়েছে।” যদিও শেষে তাঁর সংযোজন, “রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ বলেই আমরা খুশি মনে ওই টাকা দিয়েছি।” অন্য এক সংগঠন, ইস্টার্ন হিমালয়া ট্রাভেল আন্ড ট্যুর অপারেটর আস্যোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক সন্দীপন ঘোষ বলেন, “টাকা স্বেচ্ছায় জমা দিতে বলা হলেও টাকার অঙ্ক বলে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের পর্যটন দফতরের আধিকারিকরা ফোন করে জানিয়েছেন ওই টিকা পিছু ৩১৫ টাকা দেওয়া বাধ্যতামূলক। এটাই সরকারের নীতি। টাকা না দিলে টিকাও মিলছে না।”

সন্দীপন জানিয়েছেন, “রাজ্যের ত্রাণ তহবিলে ডোজ পিছু ৩১৫ টাকা দিয়ে আমরা টিকা নিচ্ছি। গতকাল শিলিগুড়িতে আমাদের টিকার শিবিরে ২২০ জন টিকা নেন। আমরা রাজ্যে ত্রাণ তহবিলে মোট ৬৯,৩০০ টাকা দিয়ে টিকাকরণ করিয়েছি।” এই ঘটনা এবং দিলীপ ঘোষের অভিযগের ভিত্তিতে শিলিগুড়ি পুরসভার প্রশাসক গৌতম দেব বলেন, দিলীপ ঘোষ ভুল তথ্য দিচ্ছেন। কোথাও রাজ্য সরকার অর্থের বিনিময়ের টিকা দিচ্ছেনা।

উল্লেখ্য, করোনা মোকাবিলা ও টিকাকরণ নিয়ে বৈঠক করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকে টিকাকরণের জন্যে বণিকসভার কাছে টিকা কেনার আবেদন করেছিলেন তিনি। সেই মতো প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিল বণিকসভা। কিন্তু টিকানিতে টাকা দিতে হবে বাধ্যতামূলক ভাবে এমন কথা একবারের জন্যেও বলেননি মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু, শিলিগুড়িতে কে বা কারা, কিভাবে টিকাকরণের ক্ষেত্রে ত্রান তহবিলে বাধ্যতামূলক দানের অঙ্ক বেঁধে দিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত