নজরবন্দি ব্যুরোঃ সিপিএম খেয়াল রেখেছে আবেগের, যোগাযোগ করেছে দলের নেতারা, আপাতত তাতেই মন গলেছে অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের। গত কয়েকদিন ধরেই আলোচনার শীর্ষে রূপা-অনিন্দ্য’র বিজেপি যোগ নিয়ে। যাদবপুর শ্রমজীবী ক্যান্টিনের ৫০০ তম দিনে আচমকা অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছিল বিজেপি ঘুরে আসা রূপা-অনিন্দ্যকে।
আরও পড়ুনঃ কয়েক ঘন্টাতেই লুঠপাঠের কথা অস্বীকার কাবুলের ভারতীয় দূতাবাসের
বাম নেতা শতরূপের সঙ্গে ছবিও ভাইরাল হয়েছিল। ব্যাস, সেখানেই শুরু হয়েছিল বিতর্ক আর জল্পনার। বিজেপি থেকে আসা দলত্যাগীদের বামেদের মিছিলে দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন বহু কর্মী-সমর্থকরা। সেই আবহেই রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন তাঁরা দলে থাকলে তিনি আর থাকবেন না বামেদের ঘরে।
নিজের ফেসবুক ওয়ালে অভিনেতা লিখেছিলেন, “আমি কোনো প্রলোভন বা পাওয়ার এর কারণে রাজনীতি করিনা।আমার রাজনীতি একান্তই আদর্শগত সিপিএম এর মঞ্চে যদি টিকিট না পাওয়া হতাশ বিজেপি জায়গা পায় তাহলে আমি আজ এই মুহূর্ত থেকে সিপিএম এর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করলাম। আমার বামপন্থা সিপিএম এর মুখাপেক্ষী নয়|যে একবারের জন্য ও সাম্প্রদায়িক দলের সাথে জড়িয়েছে,বিশেষত সে যদি সেলিব্রিটি হয়,তার সাথে কোনোদিন এক মঞ্চে আমি থাকব না। সিপিএম ভেবে দেখুক আমাদের প্রয়োজন,না তাদের।”
সিপিএম খেয়াল রাখছে উদ্যোমী সমর্থকদের, খুশি রাহুল নেতাদের যোগাযোগে।
রাহুলের এই কথায় একমত শ্যামল চক্রবর্তীর কন্যা উষসীও। একমত হয়েছিলেন শ্রীলেখা মিত্রও। তার পর থেকেই আরও কঠিন হয়েছে পরিস্থিতি। ২১ এর ভোটের আগে বামেদের পাশে ভরসার কাঁধ হয়ে ছিলেন রাহুল-শ্রীলেখারা। বাম শূন্য হয়ে যাওয়ার পরেও তাঁদের ছেড়ে যাননি। উল্টে সুর বেঁধেছেন একসঙ্গে থাকার। এহেন উদ্যমী, পরিশ্রমীদের হারাতে নারাজ আলিমুদ্দিন।

এদিকে চরম জলঘোলা দেখে রূপা জানিয়েছেন তিনি বিজেপি ত্যাগ করলেও যোগ দেননি অন্য দলে। সঙ্গেই তিনি সাফাই দিয়ে জানিয়েছেন, “আমাদের আমন্ত্রণ জানান হয়েছিল। তাই গেছিলাম। আগে এত বিতর্ক হবে জানলে কোর্ট পেপারে সই করিয়ে রাখতাম। ওদের ভাল কাজকে সমর্থন জানিয়েছি, তাই গেছি। ভবিষ্যতে আবার যাব। ভাল কাজকে সমর্থন জানালে এরকম জল ঘোলা হলে কেউ পরে আর সমর্থন জানাবে না। আর আমাকে তো বিজেপির নেতারা চিনতেন না। তাহলে এখন ওদের এত সমস্যা হচ্ছে কেন?”
তবে লালের ঘর সামলাতে হাল ধরেছে আলিমুদ্দিন। সূত্রের খবর নিজেদের কঠিন সময়ের সাথী দের হারাতে না চেয়ে দলের নেতারা যোগাযোগ করেছিলেন রাহুলের সঙ্গে। সিপিএম খেয়াল রাখছে তাঁদের আবেগের, বাংলার এক সংবাদমাধ্যমকে রাহুল অরুণাদোয় বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন রাজ্য সিপিএম এর শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁদের আবেগকে মর্যাদা দিয়েছেন, যোগাযোগ করেছেন তাঁর সঙ্গে। এমনকি জানিয়েছেন দলের নেতাদের সঙ্গে সন্তোষ জনক কথা হয়েছে তাঁর। দলের তরফে জানানো হয়েছে রাহুল-শ্রীলেখাদের আবেগকে মর্যাদা দিয়েই সিদ্ধান্ত নেবে দল।



