নজরবন্দি ব্যুরোঃ নতুন বছরের শুরুতেই আতঙ্ক হয়ে উঠেছে করোনা ভাইরাসের (Coronavirus) তৃতীয় ঢেউ। রাজ্য জুড়ে হু হু করে রাজ্যে বাড়ছে (COVID-19) সংক্রমণ। গত ৮ দিনে প্রায় ২০ গুন সংক্রমণ বেড়েছে রাজ্যে। তৃতীয় ঢেউ রুখতে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যে নতুন করে একাধিক বিধিনিষেধ জারি হয়েছে। তবে এখানেই শেষ নয়। করোনা বাড়তেই টান পড়েছে রাজ্যের অর্থ ভাণ্ডারে।
আরও পড়ুনঃ ১০০ টেস্টে ২৫ জন আক্রান্ত, করোনা জ্বরে বুঁদ রাজ্য! দেখুন জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যান।
সেই কারনেই করোনা আবহে আরও কড়া নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন। রাজ্যে এখন আংশিক লকডাউনের পরিস্থিতি চলছে। রাজ্যসরকারের আয় কমছে বিপুল ভাবে। তাই এবার সরকারের খরচেও লাগাম টানা হল। বৃহস্পতিবার অর্থ দফতরের তরফে রাজ্যের সবকটি সরকারি দফতর কে একটি নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়েছে, ন্যুনতম খরচ করলেও অর্থ দফতরের অনুমতি নিতে হবে।
অর্থদফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাত উপুড় করে খরচ করতে পারবে না কোন দফতর। গাড়ি, টিভি থেকে শুরু করে জানালা বা দরজার পর্দা সব কিছু কেনার ক্ষেত্রেই লাগাম টেনে দিয়েছে অর্থ দফতর। অন্যদিকে আজই রাজ্যকে রাজস্ব ঘাটতি খাতে অর্থ বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রিয় সরকার। মোট ১ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ কে।
এই নিয়ে মোট ১০ টি ধাপে রাজ্যের জন্যে ১০ হাজার ৬৭২.৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রের সরকার। সংবিধানের ২৭৫ ধারা অনুযায়ী, পোস্ট ভিভল্যুশন রেভিনিউ ডেফিসিট অর্থাৎ পিভিআরডি খাতে এই টাকা বরাদ্দ করা হয়। আজ এই খাতে ১৭ টি রাজ্যের জন্যে মোট ৯৮ হাজার ৭১০ কোটি টাকা রিলিজ করেছে কেন্দ্র। যার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে জন্যে জুটেছে মাত্র ১ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা। কেন্দ্রের এই আচরণ কে বিমাতৃসুলভ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
৯৮ হাজার কোটির মধ্যে ভাগে মাত্র ১ হাজার কোটি, বঞ্চনার আবহে চরম নির্দেশিকা নবান্নের!

এদিকে আজ মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেছেন করোনায় আরও কড়া হচ্ছে রাজ্য সরকার। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ”মাস্ক কম্পালসারি, হাতে হ্যান্ডগ্লাভস বা স্যানিটাইজার। মেয়েরা চুল ঢাকুন। মাস্ক, গ্লাভস, স্যানিটাইজার, হেডস্কার্ফ মাস্ট। প্রশাসন জোর করে মাস্ক পরাতে পারবে না। নিজেরা দয়া করে মাস্কটা পরুন। পুলিশকেও বলছি, এবার একটু কড়া হাতে এসবের মোকাবিলা করুন।”



