Internet: মোবাইল রিচার্জের পাশাপাশি খরচ বাড়ছে ব্রডব্যান্ডেও, মাথায় হাত আমজনতার

মোবাইল রিচার্জের পাশাপাশি খরচ বাড়ছে ব্রডব্যান্ডেও, মাথায় হাত আমজনতার
মোবাইল রিচার্জের পাশাপাশি খরচ বাড়ছে ব্রডব্যান্ডেও, মাথায় হাত আমজনতার

নজরবন্দি ব্যুরোঃ  মাথায় হাত আমজনতার, সাধারণ মানুষ তাহলে কোথায় যাবে? একেই মোবাইল রিচার্জের খরচ বেড়েছে, এর মধ্যেই এবার ব্রডব্যান্ডের খরচও বাড়তে চলেছে বলে খবর। দেশের প্রায় প্রতিটি বেসরকারি টেলিকম সংস্থাই রিচার্জ প্ল্যানের খরচ বাড়িয়েছে। কোন কোন সংস্থা ব্রডব্যান্ড খরচ বাড়াচ্ছে, কত টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে – এ সব নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। তবে ব্রডব্যান্ডের খরচ যে বাড়তে চলেছে, একাধিক সূত্র মারফত সেই খবর মিলেছে।

আরও পড়ুনঃ ফোনে থাকবে মাত্র একটা নম্বর, ফের বিশ্ববাসীর মাথায় পড়লো হাত!

সংবাদমাধ্যম পিটিআই-এর তরফ থেকে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। সেই রিপোর্টে মেঘবালা ব্রডব্যান্ডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা তপব্রত মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, “টেলিকম ইন্টারনেট সার্ভিসের মতোই ব্রডব্যান্ডের ক্ষেত্রেও ইউজার প্রতি গড় রেভিনিউ (ARPU) বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা উদ্ভূত হয়েছে।” তপব্রত মুখোপাধ্যায় আরও জানান, সার্ভিস টিকিয়ে রাখতে গেলে মোবাইল রিচার্জের মতোই এই মুহূর্তে ব্রডব্যান্ডের ক্ষেত্রেও খরচ বাড়ানো দরকার।

হালফিলের ব্রডব্যান্ড প্ল্যানগুলি খুঁটিয়ে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, প্রতিটি ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারই (ISP) তাদের গ্রাহকদের কাছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে একগুচ্ছ ওভার দ্য টপ (OTT) প্ল্যাটফর্মের সার্ভিস অফার করছে। মূলত একটু বেশি খরচের ব্রডব্যান্ড প্ল্যানগুলির সঙ্গে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ফ্রি সার্ভিস অফার করা হয়। তপব্রত মুখোপাধ্যায় বলছেন, এর ফলে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির খরচ আগের থেকে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।

টেলিকমের ক্ষেত্রে যেখানে প্রতিটি সংস্থাই বড় (ব্রডব্যান্ড পরিষেবাও অফার করে থাকে), ঠিক সেখানেই আবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছে একাধিক ছোট ব্রডব্যান্ড পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা। এখানেই বড়সড় সমস্যার সম্মুখীন হতে চলেছে অপেক্ষাকৃত ছোট ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলি, এমনই আশঙ্কার কথা শোনালেন তপব্রত। ভারতী এয়ারটেল, রিলায়েন্স জিও, ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেডের মতো প্রতিটি সংস্থাই প্রায় দেশের বড় ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার।

সমস্যাটা এখানেই। কারণ বড় সংস্থা কখনই দাবি করবে না যে, তাদের কম টাকা দেওয়া হচ্ছে। তপব্রত মুখোপাধ্যায় বলছেন, “টেলিকম সংস্থাগুলি কেবল জানিয়েছিল, মোবাইল ট্যারিফের খরচ ভারতে খুবই কম। আর তাতেই ট্যারিফ প্ল্যানের খরচ বাড়িয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ব্রডব্যান্ডের ক্ষেত্রে সবথেকে সমস্যা হল, বড় সংস্থার ভিড়ে ছোট ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদেরও একাধিক অফার সম্পূর্ণ বিনামূল্যেই ছেড়ে দিতে হয়। সেটা বড় সংস্থার ক্ষেত্রে পুষিয়ে গেলেও সমস্যা হচ্ছে একাধিক ছোট ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের।”

এখন ব্রডব্যান্ড প্ল্যানের খরচ বাড়লে ঠিক কী হতে পারে? সস্তার এবং অপেক্ষাকৃত কম স্পিডের ব্রডব্যান্ড প্ল্যান যেগুলি ১০০ Mbps – ২০০ Mbps স্পিড অফার করে, তাদের খরচ আরও ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বাড়ানো হতে পারে। তপব্রত মুখোপাধ্যায় বলছেন, “এটি এমনই একটি বিষয় যার জন্য অনেক পরিকল্পনা এবং সতর্ক মূল্যায়ন প্রয়োজন। কারণ ভারতে ব্রডব্যান্ড ট্যারিফগুলিও তেমন সস্তা নয়।”

মোবাইল রিচার্জের পাশাপাশি খরচ বাড়ছে ব্রডব্যান্ডেও, মাথায় হাত আমজনতার

মোবাইল রিচার্জের পাশাপাশি খরচ বাড়ছে ব্রডব্যান্ডেও, মাথায় হাত আমজনতার
মোবাইল রিচার্জের পাশাপাশি খরচ বাড়ছে ব্রডব্যান্ডেও, মাথায় হাত আমজনতার

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এখনও ওয়ার্ক ফ্রম হোম করে চলেছেন। আর ওয়ার্ক ফ্রম হোমের জন্য দরকার একটি ঠিকঠাক স্পিডের ব্রডব্যান্ড পরিষেবা। সঠিক স্পিড এবং ফাইবার ব্রডব্যান্ডের মসৃণ অভিজ্ঞতা পেতেই এখন গ্রাহকদের একাধিক প্ল্যানে অন্তত ১০০০ টাকার বেশি খরচ করতে হয়। আর সেই কারণেই ব্রডব্যান্ডের ক্ষেত্রে ২০% খরচ বৃদ্ধি দেশের অনেক ইউজারের জন্যই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।