বিহার ভোটের আগে এসআইআর (Special Intensive Revision) নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি। সংসদের বাদল অধিবেশনে এই ইস্যুতে বিরোধী শিবিরের কণ্ঠস্বর দিন দিন তীব্র হচ্ছে। বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই আন্দোলনে কার্যত নেতৃত্ব দিচ্ছে। শুক্রবার সংসদের বাইরে এসআইআর বিরোধী বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন দলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সঙ্গে ছিলেন সব সাংসদ।
এদিন বিকেলেই দলীয় সাংসদ, বিধায়ক ও জেলা সভাপতিদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভারচুয়াল বৈঠক ডাকেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। জানা গেছে, এই বৈঠকের নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং অভিষেক। মূল লক্ষ্য, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এসআইআর নিয়ে চাপ বাড়ানোর কৌশল নির্ধারণ এবং ভোটার তালিকায় প্রকৃত ভোটারদের নাম সুরক্ষিত রাখা।


২০২৬ নির্বাচনের আগে একজোট কংগ্রেস-তৃণমূল, অভিষেকের নির্দেশে বৈঠকে সুব্রত বক্সি

বিরোধীরা ইতিমধ্যেই এই ইস্যুতে এককাট্টা। কংগ্রেস থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিরোধী দল সংসদে একযোগে প্রতিবাদ করছে। দিল্লির নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচিরও ঘোষণা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাহুল গান্ধীর আয়োজিত বিরোধী শিবিরের নৈশভোজে অংশ নেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ ব্রায়েন। সেখানে রাহুল-অভিষেক-ডেরেককে দীর্ঘ সময় একান্তে আলোচনা করতে দেখা যায়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, সংসদে কেন্দ্রকে চাপে ফেলতে কংগ্রেস ও তৃণমূল কৌশলগত সমন্বয় বাড়িয়ে তুলছে। শুধু তাই নয়, এসআইআরের নামে যেন আসল ভোটার বাদ না পড়ে এবং ভুয়ো ভোটার তালিকায় না ঢোকে—এমন সতর্ক বার্তাও দেওয়া হবে আজকের বৈঠকে।

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বাংলা ও বাঙালির উপর কেন্দ্রের ‘অত্যাচার’ বিষয়েও অবস্থান স্পষ্ট করতে চান সুব্রত বক্সি। তিনি সাংসদ ও বিধায়কদের স্মরণ করিয়ে দেবেন, ভোটের আগে জনগণের আস্থা অটুট রাখতে হলে প্রতিটি বুথে এসআইআর নিয়ে সতর্ক নজরদারি জরুরি।


অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদীয় কাজে ব্যস্ত থাকায় সরাসরি বৈঠকে না থাকলেও, দলের প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য বক্সিকে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। ফলে আজকের এই বৈঠককে ঘিরে তৃণমূল শিবিরে বাড়তি গুরুত্ব তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই তৃণমূল-কংগ্রেস ঐক্য কেন্দ্র-বিরোধী লড়াইকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। বিরোধী ঐক্য সুদৃঢ় হলে এসআইআর-সহ অন্যান্য ইস্যুতে কেন্দ্রের ওপর চাপ আরও বেড়ে যাবে।







