রাজনীতিতে থাকবেন কি না, লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হবেন কি না, এমনই নানা প্রশ্ন উঠে আসছিল টলিউড অভিনেতা তথা ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারীকে কেন্দ্র করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের পর জল্পনার অবসান হল। দেব জানিয়ে দিলেন, রাজনীতি ছাড়ছেন না। এরপরই সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে জেলা সফরে দেখা গেল তাঁকে। এদিনই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান (Ghatal Master Plan) নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন: আমি রাক্ষস! হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েই স্বমেজাজে মহাগুরু
এদিন আরামবাগের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘দেব (Dev) ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানের কথা আমাকে বলেছে। আমি মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনা করে নিয়েছি। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান তৈরি করতে বলা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেব (Ghatal MP Dev) ঘাটালের চ্যাম্পিয়ন। তোমার আবদার আমি কিন্তু রেখেছি। এটি হলে ১৭ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবে। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা লাগবে, আমরা কেন্দ্রের উপর বসে থাকব না। চেষ্টা করা হবে এটা যাতে ৩-৪ বছরের মধ্যে রূপায়িত হয়। দেব আমার কাছে আবদার করেছে। দিদি তো আর ভাইকে ফেরাতে পারে না।’

সোমবার আরামবাগের সভা থেকে দেব বলেন, “২০২৪-এ আমি জানি না কে জিতবে, মানুষ যাকে ভালবাসবে, যাকে বিশ্বাস করবে, তিনিই জিতবে। আমি দশ বছর ধরে কেন্দ্রর সাথে লড়েছি, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান যেন তারা অনুমোদন দেয়, কিন্তু এখনও তারা করেনি। ২০২৪-এ আমি জিতব কি জিতব না আমি জানি না। আমি এইটুকু বলব দিদিকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান যেন আপনার হাত ধরে হয়। দশ বছর ধরে কেন্দ্রের উপর ভরসা রেখেছিলাম কিন্তু ওরা কাজ করেনি। তবে আমার বিশ্বাস ২০২৪ সালের পর থেকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান আর স্বপ্ন থাকবে না, স্বপ্ন পূরণ হবে।”
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের স্বপ্নপূরণ করবে রাজ্য, দেবের ‘আবদার’ রেখেই বড় ঘোষণা মমতার

গত ৮ তারিখ ‘শেষ দিন’ সংসদে দাঁড়িয়েও দেব ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে কথা বলেছিলেন। তিনি বলেন, ‘ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে প্রথমদিন বলেছিলাম। আজ আমার শেষ দিন সংসদে, আজও বলতে চাইছি যে, ১৯৫০ থেকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে মানুষের অনেকদিনের কষ্ট, অনেক দিনের বেদনা। আমি আপনার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে আবেদন জানাতে চাই, এটা তৃণমূল বা বিজেপির সমস্যা নয়, এটা বাংলার সমস্যা। ঘাটালের মানুষের স্বপ্ন যেন সত্যি হয়। আমি সাংসদ হিসেবে থাকি বা না থাকি, ঘাটালের মানুষ যেন ভালো থাকে।’



