তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের টানাপোড়েন এবার প্রকাশ্যে। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya) রাজ্য সভাপতির পদ-সহ দলের সমস্ত সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর সামনে আনলেন নিজের সিদ্ধান্তের কারণ। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) তাঁর আনুগত্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলেন। সেই আঘাত থেকেই তিনি সব পদ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এক বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চন্দ্রিমা বলেন, তিনি দলের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য না হলেও দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন। তাঁর কথায়, গত ৩ জুন কালীঘাট (Kalighat)-এর বৈঠকে তাঁকে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারপর থেকে প্রায় প্রতিদিনই তিনি দলের মেট্রোপলিটান (Metropolitan) অফিসে গিয়েছেন। শুধু ২২ জুন ও ১ জুলাই ছাড়া কোনও দিন অনুপস্থিত ছিলেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
চন্দ্রিমার অভিযোগ, মেট্রোপলিটান ভবন ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কের জেরে শুক্রবার একটি ঘটনার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। তাঁর বক্তব্য, কয়েকজন বিধায়ক ওই দিন অফিসে এসেছিলেন। তিনি সেখানে থাকলেও তাঁদের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি। বাড়ি ফেরার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ফোন করেন এবং অভিযোগ করেন, তিনি নাকি ভবনটি অন্যদের হাতে তুলে দিয়েছেন।
এই প্রসঙ্গেই চন্দ্রিমা বলেন, “দিদি আমাকে বললেন, তুমি ওদের হাতে ভবন তুলে দিলে? এই কথাটা শুনে আমি ভীষণ কষ্ট পাই। আমি বলি, দিদি আপনি আমাকে এই কথা বলতে পারলেন?” তাঁর দাবি, সেই মুহূর্তেই তিনি অনুভব করেন যে তাঁর আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আর সেই পরিস্থিতিতে দায়িত্বে থাকা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
চন্দ্রিমা আরও বলেন, “আমি হয়তো অনেক সময় অনেকের প্রতি কঠোর হয়েছি, কিন্তু দলের প্রতি আমার আনুগত্যে কখনও খামতি ছিল না। অত্যন্ত বেদনাহত মন নিয়ে আমি সব পদ ছেড়ে দিয়েছি।” পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, আপাতত কালীঘাট (Kalighat)-এ গিয়ে দলীয় বৈঠকে যোগ দেওয়ারও কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই।
প্রসঙ্গত, শনিবারই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেন। একইসঙ্গে দলের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সিগনেটরি এবং ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)-এ দলের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি চান। তাঁর এই সিদ্ধান্ত তৃণমূলের অন্দরের সাম্প্রতিক সাংগঠনিক দ্বন্দ্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। এখন এই ইস্তফা নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।






