দেশের একাধিক নির্বাচনে কৌশলী হিসেবে পরিচিত প্রশান্ত কিশোর (Prashant Kishor) এবার নিজেই ভোটের লড়াইয়ে নামছেন। বিহারের (Bihar) বাঁকিপুর (Bankipur) বিধানসভা উপনির্বাচনে জন সুরাজ (Jan Suraaj)-এর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি। বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্র থেকেই রাজনৈতিক ইনিংস শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পিকে, যা ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরেই নির্বাচনে লড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন প্রশান্ত কিশোর। রবিবার সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে জন সুরাজের রাজ্য সভাপতি মনোজ ভারতী (Manoj Bharti) আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর প্রার্থিতার ঘোষণা করেন। এর মধ্য দিয়েই প্রথমবারের মতো সরাসরি ভোটের ময়দানে নামতে চলেছেন দেশের অন্যতম পরিচিত নির্বাচনী কৌশলী।
বাঁকিপুর আসনটি বর্তমানে শূন্য হয়েছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি নীতিন নবীন (Nitin Nabin) রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর। দীর্ঘদিন ধরেই এই কেন্দ্র বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেই আসন থেকেই গেরুয়া শিবিরকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর।
প্রার্থিতা ঘোষণার আগেই পিকে জানিয়েছিলেন, যদি তাঁর প্রার্থী হওয়া বিজেপির এই দুর্গে সমীকরণ বদলে দিতে পারে, তাহলে তিনি নির্বাচনে লড়তে প্রস্তুত। রবিবার প্রার্থী ঘোষণার পরও আত্মবিশ্বাসী সুরেই তিনি বলেন, বাঁকিপুরের মানুষ রাজ্যের সবচেয়ে শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ ভোটারদের মধ্যে অন্যতম। তাই তাঁরা যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নেবেন বলেই তাঁর বিশ্বাস। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, দলের একমাত্র বিধায়ক হলেও কার্যত অন্য ২৪২ জন বিধায়কের থেকেও বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের সূচি অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুলাই বাঁকিপুরে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। ৩ আগস্ট প্রকাশিত হবে ফলাফল। ওই দিনই প্রথমবার নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমে প্রশান্ত কিশোরের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের প্রথম বড় পরীক্ষা হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের বিহার বিধানসভা নির্বাচন (Bihar Assembly Election)-এ জন সুরাজ কোনও আসন জিততে না পারলেও প্রায় সাড়ে ৩ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। সে সময় প্রশান্ত কিশোর নিজে প্রার্থী হননি, যদিও প্রথমে নির্বাচনে লড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সেই অভিজ্ঞতার পর এবার তিনি সরাসরি ভোটের ময়দানে নেমে দলের সংগঠন ও জনসমর্থন—দুইয়েরই পরীক্ষা দিতে চলেছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার জল্পনাও রাজনৈতিক মহলে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।






