ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Dr. Syama Prasad Mookerjee) জন্মজয়ন্তীকে সামনে রেখে আচমকাই বেড়েছে তাঁর মূর্তির চাহিদা। রাজ্যজুড়ে বিজেপির বিভিন্ন কর্মসূচির প্রস্তুতির মাঝেই পশ্চিম বর্ধমানের জামুড়িয়া (Jamuria)-র প্রত্যন্ত ডোবরানা গ্রামের ভাস্কর ভীম পাল এখন অর্ডারের চাপে কার্যত নাওয়া-খাওয়ার সময় পাচ্ছেন না। আগামী এক মাসে ১৫ থেকে ২০টি মূর্তি তৈরি করার দায়িত্ব এসে পড়েছে তাঁর স্টুডিওতে।
৬ জুলাই ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিন উপলক্ষে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সেই উপলক্ষেই কলকাতা, বীরভূম, দুর্গাপুর-সহ একাধিক এলাকা থেকে মূর্তির বরাত আসছে। শিল্পীর দাবি, বিজেপির একাধিক জনপ্রতিনিধি ও নেতারাও তাঁর স্টুডিও থেকেই মূর্তি তৈরির অর্ডার দিয়েছেন।
তবে এই বিপুল চাহিদার মধ্যেও সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে সময়। ভীম পালের কথায়, অনেক ক্ষেত্রেই মাত্র দু-তিন দিন বা এক সপ্তাহ আগে ফোন করে মূর্তি চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু একটি ফাইবার কোটেড আবক্ষ মূর্তি তৈরি করতে প্রথমে মাটির ক্লে মডেলিং, তারপর মোল্ড তৈরি এবং ফিনিশিং-সহ পুরো প্রক্রিয়ায় অন্তত ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগে। বড় মাপের মূর্তির ক্ষেত্রে সেই সময় আরও বেড়ে প্রায় এক মাস পর্যন্ত হতে পারে।
গত ১২ বছর ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত ভীম পাল। ডোবরানা এবং বোলপুর (Bolpur)-এ তাঁর স্টুডিও রয়েছে। এর আগেও তিনি বীরভূমের বিজেপি কার্যালয়ের জন্য ডক্টর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মূর্তি তৈরি করেছেন। এছাড়া শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র উদ্যোগে দুর্গাপুরে এক শহিদ বিজেপি কর্মীর স্মৃতিতে মূর্তি নির্মাণের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।
ভীম পালের তৈরি সাড়ে তিন ফুট উচ্চতার ফাইবার গ্লাসের মূর্তির আয়ু প্রায় ৩০ থেকে ৪০ বছর। প্রতিটি মূর্তি তৈরিতে খরচ হয় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। তুলনায় ব্রোঞ্জের মূর্তি তৈরির ব্যয় প্রায় তিন লক্ষ টাকা হওয়ায় বর্তমানে ফাইবার কোটেড মূর্তির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্পী।
বর্তমানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি কলকাতা থেকে আসা অনলাইন অর্ডারও সামলাতে হচ্ছে ভীম পালকে। সাড়ে তিন ফুটের আবক্ষ মূর্তি থেকে শুরু করে ৬ থেকে ৭ ফুটের পূর্ণাঙ্গ মূর্তি তৈরির কাজ চলছে একসঙ্গে। সময়ের সীমাবদ্ধতায় সব অর্ডার নির্ধারিত সময়ে পৌঁছে দেওয়া কঠিন হলেও, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তীকে ঘিরে পশ্চিম বর্ধমানের এই শিল্পীর কাজ এখন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দুই মহলেই বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।






