‘ভোট চুরি, আসন চুরি এবং চাঁদা চুরি’, রামমন্দির ইস্যুতে ‘মৌন’ মোদিকে তুমুল আক্রমণ কংগ্রেসের

অযোধ্যার রামমন্দিরে অনুদান ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী মোদির নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কংগ্রেস, বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

অযোধ্যার (Ayodhya) রামমন্দির (Ram Mandir)-এ অনুদান ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করল কংগ্রেস (Congress)। দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ (Jairam Ramesh) প্রশ্ন তুলেছেন, রামমন্দির উদ্বোধনের কৃতিত্ব যিনি নিয়েছিলেন, সেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) কেন এই বিতর্কে নীরব। একইসঙ্গে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তেরও দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস।

এক সাক্ষাৎকারে জয়রাম রমেশ দাবি করেন, রামমন্দিরের অনুদান সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনায় আরএসএস (RSS)-এর প্রতিক্রিয়াও অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি বলেন, অন্যদের নৈতিকতার প্রশ্নে সরব হওয়া সংগঠনটির এই ঘটনায় অবস্থান প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

কংগ্রেস নেতার দাবি, রামমন্দিরে আসা কোটি কোটি টাকার অনুদানের একটি অংশ অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই কারণেই সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)-এর কোনও বিচারপতির নেতৃত্বে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি আক্রমণ করে জয়রাম রমেশ বলেন, লোকসভা নির্বাচনের আগে রামমন্দির উদ্বোধনকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাই মন্দিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রকাশ্যে অবস্থান জানানো উচিত বলেও তাঁর মত।

একইসঙ্গে রাজ্যসভা (Rajya Sabha) নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মীনাক্ষী নটরাজন (Meenakshi Natarajan)-এর মনোনয়ন বাতিলের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপিকে কটাক্ষ করেন জয়রাম। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির রাজনীতির কৌশল হল “ভোট চুরি, আসন চুরি এবং চাঁদা চুরি”। ইলেকটোরাল বন্ড (Electoral Bonds) প্রসঙ্গও তুলে তিনি দাবি করেন, অনুদান ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর মন্দির কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, আগে যেখানে প্রতিদিন নগদ অনুদান বাবদ সরকারি অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা জমা পড়ত, বর্তমানে তা বেড়ে ২৪ থেকে ২৬ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে অভিযোগকারীদের দাবি, আগে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ অর্থ আত্মসাৎ হতো। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান। ইতিমধ্যে কিছু নগদ অর্থ উদ্ধার হলেও, মন্দির থেকে নিখোঁজ হওয়া সোনার অলঙ্কারের সম্পূর্ণ হদিশ এখনও মেলেনি বলে জানা গিয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন