বারুইপুর (Baruipur)-এ ১১ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগকে ঘিরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার জেরে স্থানীয়দের গণপিটুনিতে এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশ অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠায় নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার পরিবারের সদস্যদের ভবানীভবনে (Bhawani Bhavan) ডেকে তাঁদের সব দাবি শোনার আশ্বাসও দেন তিনি।
রবিবার সকালে বারুইপুরের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার হয় নাবালিকার দেহ। অভিযোগ, শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ থাকার পর তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। দেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। কূলপি রোডে (Kulpi Road) মৃতদেহ রেখে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও কঠোর শাস্তির দাবিতে রাস্তা অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক যুবককে ধরে বেধড়ক মারধর করেন ক্ষুব্ধ জনতা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। মৃতের নাম ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (Indrajit Tanti), বয়স ২৬ বছর। স্থানীয়দের অভিযোগ, নাবালিকার উপর নৃশংস অত্যাচারের ঘটনায় আরও ৪ থেকে ৫ জন জড়িত ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। তবে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের উপর হামলারও অভিযোগ উঠেছে। ক্ষুব্ধ জনতা সূর্যপুর (Suryapur) পুলিশ ক্যাম্পে ভাঙচুর চালায় বলেও অভিযোগ। পাশাপাশি শিয়ালদহ (Sealdah) দক্ষিণ শাখার নামখানা (Namkhana) লাইনে ট্রেন অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, পুলিশ সময়মতো পদক্ষেপ নিলে হয়তো নাবালিকার প্রাণ বাঁচানো সম্ভব ছিল। এই অভিযোগ ঘিরেও ক্ষোভ আরও বাড়ে। পরে মুখ্যমন্ত্রী নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয় বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, নাবালিকাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে কারা জড়িত এবং গণপিটুনিতে অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনায় কারা দায়ী, তা নিয়েও পৃথকভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে মূল ধর্ষণ-খুনের মামলায় পলাতক অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।






