দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর (Baruipur)-এ ১১ বছরের এক নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে গতি আনতে ৬ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে জেলা পুলিশ। রবিবার ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তদন্তের নেতৃত্বে রয়েছেন বারুইপুর পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকী দত্ত (Pinaki Dutta)। ইতিমধ্যে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের উপর হামলা, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং গণপিটুনির ঘটনায় পৃথক মামলাও দায়ের করেছে পুলিশ।
নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত তদন্ত শুরু
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল ১১ বছরের ওই নাবালিকা। রবিবার ভোরে বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে তার দেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা এখনও ময়নাতদন্ত এবং ফরেন্সিক তদন্তের রিপোর্টের উপর নির্ভর করছে। সেই কারণেই সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করে দ্রুত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
৬ সদস্যের SIT গঠন
তদন্তে গতি আনতে রবিবার সন্ধ্যায় বারুইপুর পুলিশ জেলার পক্ষ থেকে একটি ৬ সদস্যের SIT গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পিনাকী দত্তের নেতৃত্বে এই দল মামলার সব দিক খতিয়ে দেখবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহভাজন আরও কয়েকজনের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা
ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
এছাড়াও, আগামী মঙ্গলবার পরিবারকে ভবানী ভবন (Bhawani Bhavan)-এ ডেকে পাঠানো হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
বিক্ষোভ, অবরোধ ও পুলিশের উপর হামলা
নাবালিকার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয়দের একাংশ কুলপি রোডে মৃতদেহ রেখে বিক্ষোভ দেখান এবং রাস্তা অবরোধ করেন। কিছু সময়ের জন্য শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা (Sealdah South Section)-র নামখানা (Namkhana) লাইনে ট্রেন চলাচলও ব্যাহত হয়।
অভিযোগ, অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চালানো হয় এবং কয়েকটি পুলিশ গাড়িতেও ভাঙচুর করা হয়।
তিনটি পৃথক মামলা দায়ের
এই ঘটনায় মোট তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে।
প্রথমটি নাবালিকার মৃত্যুর ঘটনায়, যেখানে যৌন নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগের তদন্ত চলছে।
অন্য দুটি মামলায় সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, পুলিশের উপর হামলা, পথ অবরোধ, ভাঙচুর এবং এক অভিযুক্তের গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই দুটি মামলার অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
তদন্ত অব্যাহত
নাবালিকার মৃত্যুর কারণ, অভিযুক্তদের ভূমিকা এবং বিক্ষোভের সময় ঘটে যাওয়া সহিংসতার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। পুলিশ জানিয়েছে, প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



