বীরভূমের থানায় থানায় কালীপুজোর প্রস্তাব জগন্নাথের, রঘু ডাকাতের উদাহরণ টেনে কী বললেন মন্ত্রী?

বীরভূমের সব থানায় কালীপুজো এবং কালীমূর্তি রাখার প্রস্তাব দিলেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। রঘু ডাকাতের উদাহরণ টেনে তাঁর মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী, আপত্তি জানিয়েছেন তৃণমূলের কুণাল ঘোষও।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বীরভূমের প্রতিটি থানায় কালীপুজোর আয়োজন এবং থানার ভিতরে কালীমূর্তি রাখার প্রস্তাব দিলেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সিউড়িতে বীরভূম জেলা পুলিশের বিজয়া সম্মিলনীর অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপারের কাছে এই আর্জি জানান তিনি। অভিযানে বেরনোর আগে পুলিশকর্মীরা কালীমূর্তিতে প্রণাম করে যাবেন, এমনটাই চান মন্ত্রী। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে রঘু ডাকাতের কালীপুজো করার কাহিনিও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

বীরভূমের তারাপীঠ, কঙ্কালীতলা ও ফুল্লরার মতো শক্তিপীঠের প্রসঙ্গও তোলেন জগন্নাথ। তাঁর বক্তব্য, বিশেষ করে শক্তিপীঠ ও সিদ্ধপীঠের কাছাকাছি থাকা থানাগুলিতে কালীপুজোর আয়োজন করা উচিত। জেলার পুলিশ সুপার বিদিত রাজ বুন্দেশের কাছে এই বিষয়ে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, থানায় বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন যখন হচ্ছে, তখন সেখানে কালীপুজোও করা যেতে পারে। শুধু পুজোর আয়োজন নয়, থানার ভিতরে কালীমূর্তি রাখার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি। তাঁর যুক্তি, হাসপাতালে যেমন চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের আগে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন, তেমনই পুলিশকর্মীরাও অভিযানে যাওয়ার আগে কালীমূর্তিতে প্রণাম করে যেতে পারেন।

এই প্রসঙ্গেই রঘু ডাকাতের উদাহরণ দেন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ডাকাতি করতে যাওয়ার আগে রঘু ডাকাতও মা কালীর পুজো করতেন। থানায় কালীমূর্তি থাকলে অভিযানে বেরনোর আগে পুলিশকর্মীরা প্রার্থনা করতে পারবেন এবং থানায় ধৃত ব্যক্তিরাও মূর্তি দেখতে পাবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নিজের প্রস্তাবের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জগন্নাথ বলেন, বিষয়টিকে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত নয়। তাঁর দাবি, কালীপুজো বাঙালি সংস্কৃতির অংশ এবং পুলিশ বাহিনীর শক্তির প্রতীক হিসেবেই তিনি কালীশক্তির কথা বলেছেন। তবে সরকারি নির্দেশে থানায় থানায় পুজোর আয়োজন করা হলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলেও রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য।

মন্ত্রীকে কটাক্ষ করেছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। রঘু ডাকাতের উদাহরণ টেনে তাঁর প্রশ্ন, তা হলে কি পুলিশকর্মীদেরও ডাকাতের সঙ্গে তুলনা করা হবে? পুলিশের কাজ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা এবং অপরাধীদের গ্রেফতার করা। সেই দায়িত্বের সঙ্গে ডাকাতির আগে পুজো করার উদাহরণ টানার যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের বক্তব্য, কোনও পুলিশকর্মী ব্যক্তিগত আগ্রহে কালীপুজো করলে তা তাঁর নিজস্ব বিষয়। কিন্তু সরকার থেকে বলে থানায় থানায় পুজো করানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত নয় বলেই মনে করেন তিনি। ফলে মন্ত্রীর প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় সংস্কৃতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং পুলিশের পেশাগত ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক সামনে এসেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর