উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর (Ashoknagar)-এ বহু প্রতীক্ষিত খনিজ তেল প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ এগোল ওএনজিসি (Oil and Natural Gas Corporation – ONGC)। সংস্থার সূত্রে জানা গিয়েছে, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি মাসেই বাইগাছি (Baigachhi) কেন্দ্র থেকে বাণিজ্যিকভাবে অপরিশোধিত তেল উত্তোলন শুরু হতে পারে। ভবিষ্যতে এখান থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের বাণিজ্যিক উৎপাদনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রথম পর্যায়ে বাইগাছি কূপ থেকে তেল উত্তোলনের লক্ষ্য
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অশোকনগর এলাকায় মোট সাতটি কূপ খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে বাইগাছির একটি কূপ থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।
এছাড়া ভুরকুণ্ডা (Bhurkunda), দৌলতপুর (Daulatpur)-সহ অন্যান্য কূপেও ধাপে ধাপে কাজ এগোচ্ছে। ভবিষ্যতে সেখান থেকেও তেল উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে।
জোরকদমে ড্রিলিংয়ের কাজ
বর্তমানে বাইগাছির কূপে প্রায় ২,৪৫০ মিটার গভীর পর্যন্ত খননের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই ২,০০০ মিটারের বেশি খনন সম্পন্ন হয়েছে।
অত্যাধুনিক ড্রিলিং রিগ এবং বিশেষ ড্রিল বিটের সাহায্যে মাটির গভীরে খনিজ স্তরে পৌঁছানোর কাজ চলছে। খনন সম্পূর্ণ হওয়ার পর নিয়মিত তেল উত্তোলনের জন্য পাম্পজ্যাক (Pumpjack) বসানো হবে।
ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের পরিকল্পনাও
ওএনজিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু অপরিশোধিত তেল নয়, পরবর্তী পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের বাণিজ্যিক উৎপাদনের দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে পূর্ব ভারতের জ্বালানি অবকাঠামোয় অশোকনগরের গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ
প্রকল্পে ওএনজিসি এবং সহযোগী সংস্থাগুলির যৌথভাবে প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
প্রকল্প এলাকায় ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা পরিকাঠামো উন্নত করা হয়েছে। উঁচু প্রাচীর নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ রাস্তার উন্নয়ন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। উৎপাদন শুরু হলে ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে অপরিশোধিত তেল শোধনাগারে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
২০২০ সালের পরীক্ষামূলক উৎপাদনে ইতিবাচক ফল
২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাইগাছি কেন্দ্রের একটি কূপ থেকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩৭৫ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করা হয়েছিল। তখন ওএনজিসি জানিয়েছিল, উত্তোলিত তেলের গুণমান অত্যন্ত ভালো এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও ইতিবাচক।
PML ইস্যুতে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই প্রকল্প নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা রয়েছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) দাবি করেছেন, ২০১৮ সাল থেকেই প্রকল্পের প্রক্রিয়া শুরু হলেও পেট্রোলিয়াম মাইনিং লিজ (Petroleum Mining Lease – PML) সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাজের গতি কমে যায়।
তাঁর আরও দাবি, পরবর্তীকালে PML অনুমোদনের পর প্রকল্পে নতুন গতি এসেছে এবং উৎপাদন শুরু হলে রাজ্যের রাজস্ব বৃদ্ধি ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে এই বিষয়ে সরকারের তরফে পৃথকভাবে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় উন্নয়নের আশাবাদ
প্রকল্পটি পুরোপুরি চালু হলে এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা, অবকাঠামো, কর্মসংস্থান এবং আনুষঙ্গিক পরিষেবার উন্নয়ন হতে পারে বলে স্থানীয় মহলের আশা। তবে বাণিজ্যিক উৎপাদন কবে থেকে পূর্ণমাত্রায় শুরু হবে এবং উৎপাদনের পরিমাণ কত হবে, তা ওএনজিসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে।






