মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা দিয়েছে বাংলাদেশকে, আর সেই সঙ্কট কাটাতে এবার কৌশলগতভাবে ভারতের দিকে ঝুঁকছে ঢাকা। রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কিনে ভারতে তা শোধন করে ফের আমদানি করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ—যা দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি সহযোগিতায় নতুন দিশা দেখাতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ঢাকার প্রধান লক্ষ্য। সূত্রের খবর, Bangladesh রাশিয়া থেকে ক্রুড অয়েল কিনবে, আর সেই তেল শোধন করবে India। পরে পরিশোধিত জ্বালানি আবার বাংলাদেশে আমদানি করা হবে। পুরো প্রক্রিয়ার খরচও বহন করবে বাংলাদেশই।
এই পরিকল্পনার পেছনে রয়েছে বাস্তব সমস্যা। বাংলাদেশের একমাত্র রিফাইনারি পশ্চিম এশিয়ার হালকা তেলের জন্য উপযোগী হলেও রাশিয়ার ভারী ক্রুড সেখানে কার্যকরভাবে শোধন করা যায় না। ফলে বিকল্প হিসেবে ভারতের উন্নত রিফাইনিং অবকাঠামোর উপর নির্ভরতা বাড়ছে।
একইসঙ্গে, জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে ভারত ইতিমধ্যেই ডিজেল পাঠানো শুরু করেছে। অসমের Numaligarh Refinery থেকে ধাপে ধাপে কয়েক হাজার টন ডিজেল পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশের পার্বতীপুরে। এপ্রিল মাসে মোট প্রায় ৪০ হাজার টন ডিজেল পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যার একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে।
এই সহযোগিতার পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনও। Sheikh Hasina ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন। পরে নতুন প্রশাসনের অধীনে তা পুনরায় চালু হয়েছে, যা দুই দেশের জ্বালানি সম্পর্ককে নতুন করে শক্তিশালী করেছে।
তবে এই কৌশল নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, একক দেশ বা নির্দিষ্ট রুটের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যতে ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাশাপাশি বৈশ্বিক তেলের বাজারের অস্থিরতা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।
এদিকে বিকল্প উৎস খুঁজতেও সক্রিয় হয়েছে বাংলাদেশ। United Arab Emirates-এর সঙ্গে তেল শোধন ও এলপিজি সরবরাহ নিয়ে আলোচনা চলছে। অর্থাৎ, একদিকে ভারতের উপর নির্ভরতা বাড়লেও অন্যদিকে বহুমুখী জ্বালানি কৌশল তৈরির চেষ্টা করছে ঢাকা।
সব মিলিয়ে, এই নতুন পরিকল্পনা শুধু জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলার উপায় নয়, বরং আঞ্চলিক কূটনীতি ও অর্থনৈতিক সম্পর্কেরও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে।



