গ্যাস নিয়ে গুজবেই হুড়োহুড়ি! জানুন কেন্দ্রের নতুন বুকিং নিয়ম

গ্যাস সংকটের গুজবে আতঙ্কে হুড়োহুড়ি বুকিং, কেন্দ্রের কড়াকড়ি—লক-ইন পিরিয়ড বৃদ্ধি, কালোবাজারি রুখতে একাধিক পদক্ষেপ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার জেরে ‘গ্যাস শেষ হয়ে যাচ্ছে’—এই গুজবই যেন রাতারাতি আতঙ্কে পরিণত হল। আতঙ্কে সাধারণ মানুষ হুড়মুড় করে গ্যাস বুক করতে শুরু করতেই দেশের বিভিন্ন গ্যাস সংস্থার ওয়েবসাইট ও অ্যাপ কার্যত ভেঙে পড়ে। ওটিপি না আসা, বুকিং ব্যর্থ হওয়া—এমন সমস্যায় পড়েন হাজার হাজার গ্রাহক। কিন্তু প্রশ্ন একটাই—সত্যিই কি দেশে গ্যাসের সংকট তৈরি হয়েছে, নাকি এটি শুধুই গুজবের ফল?

ভারতের এলপিজি চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানিনির্ভর। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানিবাহী জাহাজ আটকে পড়ায় সাময়িকভাবে বাণিজ্যিক গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হয়। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।

পরবর্তীতে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পর ভারতের অন্তত দুটি জ্বালানিবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়। এতে কিছুটা স্বস্তি ফেরে সরবরাহ ব্যবস্থায়। পাশাপাশি কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—গৃহস্থালীর রান্নার গ্যাসের কোনও ঘাটতি নেই, পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

তবুও আতঙ্কের জেরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আগাম বুকিংয়ের হিড়িক পড়ে যায়। এই অস্বাভাবিক চাহিদা সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকার গ্যাস বুকিংয়ে ‘লক-ইন পিরিয়ড’ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শহরে একটি সিলিন্ডার বুক করার পর দ্বিতীয়টি বুক করতে অন্তত ২৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। গ্রামীণ এলাকায় এই ব্যবধান আরও বাড়িয়ে ৪৫ দিন করা হয়েছে, যা আগে ছিল ২৫ দিন। কালোবাজারি রুখতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক।

এর পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—যাঁদের বাড়িতে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ রয়েছে, তাঁদের সিলিন্ডার ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। এমনকি সিলিন্ডার সারেন্ডার করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য, বাণিজ্যিক গ্যাসের অপ্রাপ্তির সুযোগে যাতে কালোবাজারি না বাড়ে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি মাস থেকেই এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। কলকাতায় দাম বেড়ে হয়েছে ৯৩৯ টাকা। যদিও কেন্দ্রের দাবি, বুকিংয়ের আড়াই দিনের মধ্যেই গ্রাহকরা সিলিন্ডার পাচ্ছেন, ফলে সরবরাহ নিয়ে আতঙ্কের কোনও বাস্তব কারণ নেই।

সব মিলিয়ে স্পষ্ট—গ্যাসের প্রকৃত সংকটের থেকে বেশি সমস্যা তৈরি হয়েছে গুজব এবং আতঙ্কের কারণে। পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে, তবে সচেতনতা ও সংযমই এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত