পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিলে কোটি টাকার চেক জালিয়াতির অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, সরকারি চেকে কারচুপি করে প্রায় ১ কোটি ১৭ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। এই মামলায় ইতিমধ্যেই দুই মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার মূল অভিযুক্ত এখনও অধরা। গোটা ঘটনায় প্রশাসনিক মহলেও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত দুই মহিলার নাম আলপনা সাহা এবং প্রতিমা সরকার। অভিযোগ, সরকারি চেকের সই জাল করে এবং প্রাপকের নাম বদলে বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্য অ্যাকাউন্টে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, প্রায় ১ কোটি ১৭ লক্ষ টাকার আর্থিক জালিয়াতি হয়েছে।
এই ঘটনার সূত্রপাত হয় চলতি বছরের ৬ মে। শিলিগুড়ি (Siliguri) প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিলের তৎকালীন চেয়ারম্যান দিলীপকুমার রায় (Dilip Kumar Roy) শিলিগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কন্ট্রোলার অফ ফিন্যান্স এবং ডিডিও-র রিপোর্ট খতিয়ে দেখে সরকারি ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট ও পার্সোনাল ডিপোজিট অ্যাকাউন্টের হিসাবের মধ্যে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৪ সালের ৯ এপ্রিল একটি প্রকাশনা সংস্থার ১৪ হাজার ২৪০ টাকার বিল মেটানোর জন্য একটি সরকারি চেক ইস্যু করা হয়েছিল। অভিযোগ, পরে সেই চেকে কারচুপি করে ব্যাঙ্ক থেকে ৯ লক্ষ ১৪ হাজার ২৪০ টাকা তোলা হয়। প্রকাশনা সংস্থাকে নির্ধারিত অর্থ দেওয়ার পর বাকি টাকা অভিযুক্ত দুই মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছিল বলে অভিযোগ।
পুলিশের দাবি, এক বছরে মোট ১২টি লেনদেনের মাধ্যমে এই জালিয়াতি চালানো হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এত দীর্ঘ সময় ধরে পরিকল্পিতভাবে সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রতিটি লেনদেনের নথি এবং ব্যাঙ্ক রেকর্ড এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, কাউন্সিলের চেকবুক সংরক্ষণ থেকে শুরু করে ব্যাঙ্কে চেক জমা দেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন পেনশন ক্লার্ক রঞ্জন দত্ত। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ। পুলিশ তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে এবং তাঁকেই এই মামলার মূল অভিযুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে।
লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রথমে আলপনা সাহাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই প্রতিমা সরকারের নাম সামনে আসে। এরপর তাঁকেও গ্রেপ্তার করে তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রের দাবি, ধৃত দুই মহিলা রঞ্জন দত্তের ঘনিষ্ঠ। তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ৭১ লক্ষ ১১ হাজার ৭০০ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তকারীরা এখন এই জালিয়াতি চক্রে আরও কেউ জড়িত কি না, সেই দিকেও নজর দিচ্ছেন।






